পদ্মায় বাসডুবি: কুমারখালী থেকে ওঠা আটজনের পরিচয় মিলেছে
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে ডুবে যাওয়া বাসটির আট যাত্রীর পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা এই তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, কুমারখালী থেকে শিশুসহ আট যাত্রী নিয়ে বাসটি ছেড়ে গিয়েছিল। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা ও ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায়। আটজনের মধ্যে তিনজন নিখোঁজের তথ্য পাওয়া গেছে।
যে আট যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে, তার মধ্যে চারজন হলেন: গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) ও তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭), আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)।
গিয়াস উদ্দিন রিপন খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাই। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। ঢাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নাম তাকওয়া ফুড প্রোডাক্ট।
অন্য চারজন হলেন: মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং তাদের সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও ৭ মাস বয়সি আরশান।
নুরুজ্জামান শৈলকূপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
গিয়াস উদ্দিন ও নুরুজ্জামানের পরিবারের মধ্যে আয়েশা, আরশান ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। অর্থাৎ আটজনের মধ্যে পাঁচজন বেঁচে আছেন।
মোবাইল ফোনে নুরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করি। ছুটিতে এসে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়ি সিরিয়ালে ছিল। তখন আমি আর বড় মেয়ে নাওয়ারা বাস থেকে নেমে যায়। আর স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসেই বসা ছিল। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী আর ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।
ফোনে গিয়াস উদ্দিন রিপন বলেন, “বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনো পাইনি।”
সৌহার্দ্য পরিবহনের কুমারখালী বাস কাউন্টার মাস্টার তন্ময় আহমেদ বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে ৬টি সিটে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায় বাসটি। এরপর খোকসা থেকে সাতজন, মাছপাড়ার চারজন, পাংশার ১৫ জন, চালক, হেলপার মিলে ৫০ জন ছিলেন। ব্রেক ফেল করে গাড়িটি নদীতে নেমে গেছে। যাত্রীদের কারো পরিচয় জানা নেই।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। মুহূর্তে বাসটি পদ্মার ৭০ থেকে ৮০ ফুটি গভীরে তলিয়ে যায়।
এদিকে রাত ২টায় এই খবর লেখা পর্যন্ত ডুবে যাওয়া বাসটি উপরে তোলা হয়েছে। বাস থেকে মোট ১৬ জনের লাশ পাওয়া গেছে।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার কারণে ৫০ যাত্রীর মধ্যে কেউ কেউ বাসটি ফেরিতে ওঠার আগে নেমে গিয়েছিলেন। তারা হেঁটে ফেরিতে ওঠার আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মার পানি তলিয়ে যায়।
ঢাকা/কাঞ্চন/রাসেল
অবহেলার কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে প্রাণহানি: ফখরুল