ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ২৭ ১৪৩২ || ২১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্বামী-স্ত্রীর ‘জিন্দা কবর’ গুজবে মানুষের ঢল

নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫০, ৯ এপ্রিল ২০২৬  
স্বামী-স্ত্রীর ‘জিন্দা কবর’ গুজবে মানুষের ঢল

নাটোরের লালপুর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রীর ‘জিন্দা কবর’ নেওয়ার গুজবকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। উপজেলার দূড়দূড়িয়া ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা খালেক ফকির ওরফে খালেক ডাকাত সম্প্রতি নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক দাবি করে ‘সিদ্ধি খালেক বাবা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি স্থানীয় একটি পীরের মাজারের পাশেই বাস করেন এবং খাদেমের মৃত্যুর পর থেকে মাজারের দেখভাল করছেন।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, অতীতে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ‘ডাকাত খালেক’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি পরবর্তীতে গাঁজার ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি অনুসারীদের নিয়ে নিয়মিত ‘সিদ্ধি আসর’ নামে গাঁজা সেবনের আসর বসান এবং নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

কয়েকদিন আগে খালেক ফকির ঘোষণা দেন যে, আধ্যাত্মিক সাধনার অংশ হিসেবে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে আড়াই দিন জীবিত অবস্থায় কবরে অবস্থান করবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বুধবার থেকে তার অনুসারীরা মাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভক্তদের আপ্যায়নে এক মণ দুধ দিয়ে পায়েস রান্না এবং মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়। এছাড়া, খালেক ফকির ও তার স্ত্রী দেড় মণ দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পরিধান করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তারা নতুন করে খনন করা একটি কবরে প্রবেশ করার কথা ছিল।

এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ভিড় জমাতে থাকেন। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিকল্পনাটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা খনন করা কোনো কবরের অস্তিত্ব পাননি। স্থানীয় জনতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।

তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি নিজেকে লালনভক্ত দাবি করছেন। বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক আছে।”

এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও কৌতূহল বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

ঢাকা/আরিফুল/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়