মিয়ানমারে পাচারকালে আড়াই হাজার বস্তা সিমেন্ট জব্দ
কক্সবাজার প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কোস্ট গার্ডের অভিযানে আড়াই হাজার বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়।
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ তিনটি ফিশিং ট্রলার জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় পাচারে জড়িত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড শাহপরীরদ্বীপ আউটপোস্ট ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে এ সব ট্রলার, সিমেন্ট ও পাচারকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ভোলা জেলার মো. হান্নান (৪৫), মো. রিপন (২৩), মো. আব্দুল হালিম (২৯), মো. শিফন (২২), আব্দুল হালিম (২৮), মো. শাহীন (১৯) ও মো. রুবেল (২৫); লক্ষ্মীপুর জেলার মো. জুয়েল (২০), মো. রিয়াজ (২৬), মো. সবুজ (২২), মো. সোলেমান (৪১), আনোয়ার হোসেন (৪৩), মো. শাহিন (২৮), মো. আক্তার হোসেন (২২) ও মো. হোসন (৪০); কক্সবাজার জেলার জমির উদ্দিন (৩৫), সাহাবুদ্দিন (৪৫), মো. মনির (৩৫), মো. রুবেল (২৬) ও মো. ফারুক (২৬); চট্টগ্রামের বাঁশখালীর মো. সরোয়ার (৩৪), চন্দনাইশের মো. তৌহিদ (২২), সন্দ্বীপের মো. শিপন (৫১) ও আলাউদ্দিন (২০), আকবরশাহ এলাকার মো. সোহাগ (৩৪), মো. নাদিম (৩০), মো. জনি (৩১), সাদ্দাম (২৪), মিরসরাইয়ের আব্দুল করিম (৪২), মাঈনউদ্দীন (৪৭) ও মোস্তাকিন আরাফাত (২২), কুমিল্লা জেলার মো. শরিফ (২২) এবং সিলেটের মো. ফাহাদ (২৩)।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তিনটি ফিশিং ট্রলারে থাকা মোট ২ হাজার ৪০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এ সময় ট্রলারে থাকা ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছেন, তারা শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রামের হাতিয়া ও সন্দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিমেন্ট সংগ্রহ করে অবৈধভাবে মিয়ানমারের একটি নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর কাছে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, এ ঘটনায় জড়িত হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। জব্দ করা সিমেন্ট, ব্যবহৃত তিনটি ট্রলার এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পাচার ও চোরাচালান রোধে ভবিষ্যতেও নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে।
ঢাকা/তারেকুর/বকুল