ঢাকা     রোববার   ১৭ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩ ১৪৩৩ || ২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

টাঙ্গাইলে আড়াই লাখ কোরবানির পশু প্রস্তুত, দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৩, ১৭ মে ২০২৬   আপডেট: ১৫:২৫, ১৭ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে আড়াই লাখ কোরবানির পশু প্রস্তুত, দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

টাঙ্গাইলে পশুর হাট জমে উঠেছে

টাঙ্গাইলে কোরবানি ঈদকে ঘিরে জেলায় দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। ১২টি উপজেলার ২৬ হাজার ৭৫৯টি খামারে পশুগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে খৈল, ভূসিসহ গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা। ন্যায্য দাম পেতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে গরু আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।

প্রাণী সম্পদ কার্যালয় জানায়, কোরবানিকে ঘিরে জেলায় এক লাখ ১৭ হাজার ২৭৮টি গরু, ৫০০টি মহিষ, এক লাখ ৭ হাজার ৩৮টি ছাগল ও ৯ হাজার ১৭৭টি ভেড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি পশুরচাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকবে ৩৯ হাজার ৮৮৩টি পশু।

আরো পড়ুন:

সরেজমিনে বিভিন্ন খামারে গিয়ে দেখা যায়, গরু পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। পশুর খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, সরিষার খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড়। নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল জার্সি, ফিজিয়ান এবং ব্রাহামা প্রজাতির গরুকে প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে হৃষ্টপুষ্ট করতে ব্যস্ত খামারিরা।

সদর উপজেলার দাইন্যা গ্রামের খামারি আলেক মিয়া বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। তাই গরু মোটাতাজাকরণে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

কাকুয়া গ্রামের খামারি লুৎফর রহমান বলেন, গরু সুস্থ রাখতে ভ্যাকসিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। কোরবানির বাজারে ভালো দামের আশা করছি।

সাকরাইল গ্রামের নাজমুল অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, এখানে মোটাতাজাকরণে কোনো ধরনের কৃত্রিম মেডিসিন ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাদ্য ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গরুগুলো লালন করা হয়েছে। এই ফার্মে কোরবানির জন্য ৫১টি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটির দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা দামের মধ্যে। ভারতীয় গরু দেশে না আসলে আশা করি লাভবান হতে পারবো।

ক্ষুদ্র খামারি আব্দুল মজিদ বলেন, কোনো ওষুধ ছাড়াই শুধু ঘাস আর কুঁড়া খাইয়েছি। কিন্তু বাজারে গেলে সবকিছুর যে দাম, তাতে এবার কপালে কী আছে জানি না। সরকার যদি ভারত থেকে গরু আসা বন্ধ রাখে, তবেই আমাদের মতো গরিব খামারিরা বাঁচবে।

জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন জানান, কোরবানির হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও নির্বিঘ্ন বেচাকেনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও প্রস্তুত। পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, খামারিদের দানাদার খাদ্য, কাঁচা ঘাস ও ভিটামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার না করতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তবে, হাটে বিদেশি গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকানো গেলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির সুফল ঘরে তুলতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।  

মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, সারা দেশে এক কোটি ২৩ লাখের বেশি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে পশু আমাদের মজুদ আছে। কাজেই বাইরে থেকে কোরবানির পশু আনার দরকার নেই।

ঢাকা/কাওছার/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়