ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩ || ২৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

স্থানীয়রা না থাকলে ঘটনা অন্যরকম হতে পারত: ক্রিকেটার নাঈম

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৭, ১৩ জুন ২০২৬   আপডেট: ২০:৩৭, ১৩ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার মোড়ের যে জায়গাটায় পুলিশ সদস্যদের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন, সেখানে স্থানীয়রা জড়ো না হলে অন্যরকম কিছু ঘটতে পারত বলে মনে করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

শনিবার (১৩ জুন) বিকালে নগরীর বহদ্দারহাটের ফরিদারপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

দুয়েক মিনিট কথা বলার পর জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, “আমি এখন চাই একটু একা থাকতে। কালকে সারারাত ঘুমাই নাই। এখন আমাকে একটু স্পেস দিলে ভালো হয়।”

এর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কারণ জানিয়ে নাঈম বলেন, “আমি এখানে এসেছি একটা বিষয় জানানোর জন্য। কাল রাতে যে ভাইয়াগুলো অনেকে ছিল, প্রায় ১০০ জন বা ১২০ জনের মতো। ওদেরকে ‘স্পেশালি থ্যাংকস’।”

“ওরা না থাকলে ঘটনাটা অন্য রকম হতে পারত। যখন আমাকে হেনস্থা করছিল, নিয়ে যাচ্ছিল, তখন আমি বলেছি, ভাইয়া আপনারা আসেন। ওরা আমার সঙ্গে গেছে বিধায় অন্য কিছু করার চেষ্টা করলেও পারে নাই।”

শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান।

নাঈমের অভিযোগ, নগরীর লালখান বাজার মোড়ে অটোরিকশাটি থামিয়ে তাকে মারধর করেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় তাকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশকে জানায়, তিনি ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এরপরও পুলিশ তাকে ছাড়েনি। পরে তাকে নগরীর খুলশী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরুর ফোন পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে যান।

রাতের ঘটনার বিষয়ে নাঈম হাসান শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, “মেইনলি হলো উনি (পুলিশ) আমাকে সিএনজির ভেতর তুলতে চাইছে, তাই আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।”

এই ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে নাঈম বলেন, “সর্বোচ্চ শাস্তি আমি দাবি করব। যেটা আইনগতভাবে আসবে। যেন ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে এরকম না হয়।”

“আজকে যদি আমি স্টেপটা না নিই, কালকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হলে কেউ জানবে না। আজকে যদি স্টেপটা নিই, হয়ত ১০টা মানুষের উপকার হবে, দেশের জন্য ভালো হবে।”

অটোরিকশা থামিয়ে তল্লাশীর বিষয়ে তিনি বলেন, “কোনো নিউজ (তথ্য) আসতেই পারে। আপনার তো একটা রাইট ওয়ে আছে। যদি ধরেন একটা নিউজ আসে, যে এরকম আসতেছে। তো আপনি ধরে কী করবেন? দাঁড়া করাবেন, জিজ্ঞেস করবেন, আমার একটা নিউজ আছে ব্যাগ চেক করব। অবশ্যই চেক করার রাইট আছে, হান্ড্রেন্ড পারসেন্ট। জিনিসটার তো একটা ওয়ে আছে।”

“উনি যদি আমাকে বলতেন, আমি চেক করতে দিতাম। উনি চেক করেন নাই। ওখানে আমি সিএনজি থেকে নামছিলাম। পরে আমাকে বলছে, সিএনজিতে ওঠো। আমি মনে করছি, চলে যাওয়ার জন্য আমাকে উঠতে বলছে। আমি উঠার সঙ্গে সঙ্গে উনি ঢুকে আমার গলা চেপে ধরবে, এটা আমি জানতাম না। তখন আমি খুব ভয় পেয়ে গেছি।”

নাঈম হাসান বলেন, “ওরা ওখানে আমার ব্যাগও চেক করে নাই। কিছু করে নাই। ব্যাগগুলো নিয়ে আসছে থানায়। ব্যাগগুলো ওখানে ছিল সারারাত। আমিও ওখানে ছিলাম। আমি আসার আগে, প্রত্যেকটা জিনিস আমার গ্লাবস, ব্যাট, হেলমেট, কাপড়চোপড় সব জিনিস একটা একটা করে সব বের করে তাদের দেখাইছি। তারপর আমি ব্যাগ নিয়ে বাসায় আসছি। ডিসির সামনে এটা করেছি। উনারা ভিডিও করেছেন।”

“সিএনজিও চেক করছে। কিছু পায়নি। জিনিসটা এত বড় হত না, উনি আমাকে বললে তো ব্যাগ চেক করতে দিতাম।”

ঘটনাস্থলে এসআই শফিকুল ইসলাম ছিলেন বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান ক্রিকেটার নাঈম হাসান। এই ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এসআই মো. শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

রাতে থানায় নেওয়ার পর ওসির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, “তখন ওসিকে আমি পরিচয় দিছি। ওসি আমাকে বলতেছে, ‘চোখ নিচে নামাই কথা বল’। এটা বলছে, সঙ্গে সঙ্গে উনার মোবাইলে একটা কল আসছে। কল আসার পর যখন কথা হইছে, এরপর বলতেছে ‘ভাইয়া আপনি বসেন’। তখন উনার সুর চেইঞ্জ। ফার্স্টে কিন্তু সুর অন্য রকম ছিল।”

“ওরা আমার মোবাইল নিয়ে নিয়েছিল। যখন মোবাইল পাইছি, সঙ্গে সঙ্গে তামিম ভাইকে কল দিছি। উনি একবারেই কলটা রিসিভ করেছেন। আমার জন্য খুবই উপকার হয়েছে। ওসি তখন উনাকে মিথ্যা কথা বলতেছিল। আবার এদিকে আমাকে ‘চুপ চুপ’ করতেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উনি বুঝতে পারছে।”

এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। 

ঢাকা/রেজাউল/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়