ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ৩০ ১৪৩৩ || ২৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

রমেক হাসপাতালে চিকিৎসক-রোগীর স্বজনদের হাতাহাতি, দুর্ভোগ

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৬, ১৩ জুন ২০২৬   আপডেট: ২০:১০, ১৩ জুন ২০২৬
রমেক হাসপাতালে চিকিৎসক-রোগীর স্বজনদের হাতাহাতি, দুর্ভোগ

রোগীর স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের হাতাহাতির প্রেক্ষাপটে হাসপাতালে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে তার স্বজন এবং চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ সময় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় রোগীর দুর্ভোগ চরমে পৌছায়।

আরো পড়ুন:

এদিকে, স্বজনেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মৃত ব্যক্তির লাশ আটকে রাখার অভিযোগ করেন। এ লাশের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। 

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হলে তার ছেলে রিফাত তাকে রমেক হাসাপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসককে অক্সিজেন দিতে অনুরোধ করা হয়। তবে চিকিৎসক আগে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। 

এ সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু ঘটে। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান। চিকিৎসক ও স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরপর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের কার্যক্রম ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা বন্ধ রাখে। এ পরিস্থিতির কারণে সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মারা যাওয়া রোগীর বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘‘আমার বউ আমাকে ফোন দিয়েছে। পরে মাকে দেখতে আসছি। এসে দেখি গণ্ডগোল। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের লাশ আটকে রাখে। লাশ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হলেও সেখান থেকে কেড়ে নিয়েছে।’’ 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, ‘‘হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা দুঃখজনক। রোগীকে শেষ সময় নিয়ে আসে, আসার পর মারা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ দেখেছি, সেখানে চিকিৎসকের কোনো ফল্ট ছিল না।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো কারণ ছাড়াই সামনে যে চিকিৎসক ছিলেন তাকে ফিজিক্যালি মেরেছে। ডাক্তার নাঈম ও রাকিব ছাড়াও সেখানে অন্য যে চিকিৎসক ছিলেন, তাদের মারার চেষ্টা করেছে। দায়িত্বরত সিস্টারের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছে।’’ 

হাসপাতালের পরিচালক আরো বলেন, ‘‘কোনো চিকিৎসক কখন কোনোভাবে চায় না রোগী অবহেলায় মারা যাক। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যেটা করেছে, কোনোভাবেই কাম্য না। এ ঘটনায় আমরা এজাহার দাখিল করব। আইন অনুযায়ী যেভাব ব্যবস্থা নেওয়ার, সেটা করা হবে।’’

এদিকে লাশ হস্তান্তর না করার অভিযোগ তুলে দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে রোগীর স্বজনেরা।

লাশ আটকে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, ‘‘লাশ আটকে রাখার বিষয় সঠিক না। পরিস্থিতি এমন হয়েছে, সেখানে অনেক লোকজন, লাশটাকে গাড়িতে উঠানো কষ্টসাধ্য হয়। আমরা লাশের সেফটি, সবার সেফটির জন্য কিছু সময় লাশটি মর্গে রাখি। পরে লাশ হস্তান্তর করেছি।’’

ঢাকা/আমিরুল/বকুল

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়