নোয়াখালীতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ
নোয়াখালী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
নোয়াখালীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বীর বিক্রমের বড় ছেলে মো. আবদুর রহিম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেকের পরিবারের মালিকানাধীন একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী জহিরুল হক, তার ছেলে দিদারুল আলম ও রাকিবুল আলমের বিরোধ চলছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সকালে অভিযুক্তরা ইট, বালু ও সিমেন্ট এনে বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় বাদীপক্ষ বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একই দিন দুপুরে অভিযুক্তরা পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে বাদীর ছোট ভাই আবদুল আজিজ বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। পাশাপাশি দিদারুল আলম প্রভাব খাটিয়ে তার একটি অটোরিকশা নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আবদুর রহিম বলেন, “আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্ব গাঁথা অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীর বিক্রম উপাধি পেয়েছেন। তিনি মারা গেছেন। আমাদের প্রতিবেশী দিদারুল আলম, তাঁর ভাই রাকিবুল আলম ও তাদের বাবা জহিরুল জোর করে আমাদের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আমরা আদালতে মামলা করেছি। তারপরও কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা বাড়িতে থাকি না। আমার ছোট ভাই থাকে। তাকে কিশোর গ্যাং দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা অসহায় অবস্থায় আছি।”
তিনি বলেন, “আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি দখলের চেষ্টা করায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে জহিরুল হক বলেন, “আমি ২৬ বছর আগে এই জমি কিনেছি। সেখানে পুরোনো ঘর ভেঙে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছি। আদালতে মামলা আছে কি না, তা আমি জানি না।”
সুধারাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঢাকা/সুজন/মাসুদ