ইবি শিক্ষক রুনা হত্যাকাণ্ড: প্রধান আসামির ফোন উদ্ধার নিয়ে নতুন তথ্য
ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানের ফোন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার ২৪ দিনেও খুনির ফোনের খোঁজ মেলেনি। অবশেষে দৈনিক বজ্রপাতে ‘ইবিতে শিক্ষিকা রুনা হত্যা: খুনির ফোন নিয়ে রহস্য’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর একটি সূত্রে ফোনের খোঁজ পাওয়া গেছে। পরিবারের সূত্রমতে, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফজলুর ফোন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ জব্দ করেছে। এদিকে, হত্যার তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত অফিশিয়াল কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় ইবি থানা কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের দিন (৪ মার্চ) বিকেলে ফজলুকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কুষ্টিয়া মডেল থানা ফজলুর ফোন সংগ্রহ করে। গত ১৩ মার্চ ইবি থানা তা হস্তান্তরের চিঠি ইস্যু করলে ১৫ মার্চ তা হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া, ফজলুর পকেট থেকে কোনো প্রকার পলিথিন মোড়ানো বস্তু পাওয়ার বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানাকে তা জানানো ও হস্তান্তর করার জন্য চিঠি ইস্যু করেছে ইবি থানা কর্তৃপক্ষ।
গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে অধ্যাপক আসমা সাদিয়াকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের গণপিটুনি থেকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিনয় করে। গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমান চিকিৎসাধীন আছেন।
একই রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি, অনুষদের ডিন ও বিভাগের শিক্ষকের উপস্থিতিতে ঐ কক্ষসহ সংশ্লিষ্ট কক্ষগুলোকে সিলগালা করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন সকালে ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।
ঘটনার দিন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ২২৬ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ১৮টি আলামাত সংগ্রহ করে সিআইডি। এর মধ্যে অন্যতম হলো- ভিক্টিমের রক্তের সোয়াব, ভিক্টিমের বাক্কাল সোয়াব, ভিক্টিমের ডান হাতের সোয়াব, বাম হাতের সোয়াব, ভিক্টিমের বাম হাতের নেইল সোয়াব, ভিক্টিমের ডান হাতের নেইল সোয়াব। কালো রঙের মহিলাদের রক্ত মাখা জুতা। একটি কালো রঙের হাতলবিহীন স্টিলের ছুরি (লম্বা ৬.২৫ ইঞ্চি), রক্ত মাখা কালো প্লাস্টিকের বাটন যুক্ত ছুরি ( লম্বা প্রায় ৮.৪৫ ইঞ্চি), ফিতাযুক্ত পুরুষের স্যান্ডেল, হলুদ রঙের খাম। একটি কালো রঙের প্লাস্টিকের হাতলসহ ছুরি (লম্বা ৫ ইঞ্চি)। এছাড়া, কালো রঙের স্মার্টফোন (নিহত রুনার) ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগসহ অন্যান্য। তবে, হত্যার দিনে প্রধান আসামি ফজলুর রহমানের ফোন তারা সংগ্রহ করতে না পারলেও তদন্তের শুরু থেকেই ফজলুর ফোন নাম্বার ট্র্যাকে আছে বলে জানান ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে হত্যার পাঁচদিন পর ৯ মার্চ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, প্রক্টরিয়াল বডি ও তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিষ্কারের জন্য সিলগালা খোলা হয়। ঐদিন ফজলুর একটি ফোন নাম্বারে কল ঢুকলেও কেউ রিসিভ করেনি বলে দাবি একাধিক শিক্ষার্থীর।
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বিভাগের মধ্যেই নিহিত। যেখানে ফজলুকে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু ফজলুর দিকে নজর দিতে গিয়ে মূল আসামিরা যেন ছাড় না পায়।”
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেনের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে ব্যস্ত আছেন বলে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আমরা বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা হত্যাকাণ্ডের তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছি। ৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটির আহ্বায়কের অফিস কক্ষে লিখিতভাবে জানানোর জন্য বলা হয়েছে।”
এদিকে, এক ভিডিও থেকে অনেকে ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে আহত অবস্থায় ফজলুকে নেওয়ার প্রাক্কালে ফোনটি তার পকেটেই ছিল। ভিডিওটি প্রতিনিধির সংগ্রহে রয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফজলুকে ২২৬ নম্বর কক্ষ থেকে আহত অবস্থায় নিরাপত্তা সেলের কমকর্তা ও শিক্ষার্থী মিলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামাতে থাকে। পরে ভ্যানে তুলে ফজলুকে চিকিৎসা কেন্দ্রের দিকে নেওয়া হয়। এ সময় ফজলুর বাম পকেটে কোনো বস্তু থাকতে দেখা যায়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে একাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক জানিয়েছেন, এটি বাটন আকৃতির কোনো ফোন অর্থাৎ ফজলুর ফোন হতে পারে।
ঢাকা/তানিম/জান্নাত
‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ বিল আকারে পাসের বিষয়ে সংসদে ঐকমত্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী