ঢাকা     সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৭ ১৪৩২ || ১১ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

এনবিএল তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের অনিয়ম তদন্তে বিএসইসি

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৮:২৯, ৩০ মার্চ ২০২৬
এনবিএল তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের অনিয়ম তদন্তে বিএসইসি

ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার এনবিএল তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের অনিয়ম তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখির করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে শর্তসাপেক্ষে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরো পড়ুন:

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন-বিএসইসির যুগ্ম পরিচালক সৈয়দ গোলাম মাওলা, সহকারী পরিচালক রেজাউন নূর মেহেদী ও সহকারী পরিচালক আসমাউল হুসনা এবং বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. ওহিদুল ইসলাম। আর এ তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধান করবেন ওহিদুল ইসলাম।

জানা গেছে, ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক তথ্য স্মারক ও সম্মতিপত্রে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী বন্ডে সাবস্ক্রাইব করেছে কি-না সেটা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে কি-না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই তদন্তের মাধ্যমে এনবিএল তৃতীয় সাব অর্ডিনেটেড বন্ডের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিএসইসির তদন্তের আদেশ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মনে করে, পুঁজিবাজার এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বৃহত্তর স্বার্থে ন্যাশনাল ব্যাংকের ইস্যুকৃত ৫০০ কোটি টাকার এনবিএল তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের সাবস্ক্রিপশন চুক্তির উল্লেখ্য বিষয়সমূহের ওপর অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।এ কারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কমিশন উপরোক্ত বিষয়সমূহের অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ অনুসন্ধান পরিচালনার জন্য বিএসইসির চার জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হলো।

কমিটি যেসব বিষয় খতিয়ে দেখবে
ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ন্যাশনাল ব্যাংক কি তথ্য স্মারকে উল্লিখিত দায়িত্ব এবং সম্মতিপত্রে বর্ণিত শর্ত অনুযায়ী ৫০০ কোটি টাকার এনবিএল তৃতীয় সাব অর্ডিনেটেড বন্ডে সাবস্ক্রাইব করেছে কি-না তা যাচাই করে দেখবে গঠিত তদন্ত কমিটি। এছাড়া বন্ডের ইস্যুকারী ন্যাশনাল ব্যাংক, বন্ডের অ্যারেঞ্জার এলআইসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বন্ডের সাবস্ক্রাইবার বা বন্ডহোল্ডাররা তাদের ভূমিকা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডেট সিকিউরিটিজ) রুলস, ২০২১ এবং তথ্য স্মারকে উল্লিখিত দায়িত্ব অনুযায়ী পালন করেছেন কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ব্যাংক কি বন্ডের সাবস্ক্রাইবার বা বন্ডহোল্ডারদের ওপর ৫০০ কোটি টাকার এনবিএল তৃতীয় সাব অর্ডিনেটেড বন্ডে সাবস্ক্রাইব করার জন্য কোনো ধরনের অযাচিত প্রভাব প্রয়োগ করেছে কি-না সেটা যাচাই করবে কমিটি। একইসঙ্গে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি তারিখের সম্মতিপত্রে উল্লিখিত শর্তাবলীর আলোকে এনবিএল তৃতীয় সাব অর্ডিনেটেড বন্ডের কমপ্লায়েন্স অবস্থা যাচাই করা এবং এ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

২০২২ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসির ৫০০ কোটি টাকার তৃতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটি অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই বন্ড ইস্যু করার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি একটি প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ভিত্তিক বন্ড, যা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে বিক্রির জন্য অনুমোদিত।বন্ডটি অনুমোদনের পর এর আনুষ্ঠানিক সার্টিফিকেট হস্তান্তর কার্যক্রম ২০২৫ সালের ৩ জুন শুরু হয়।

ঢাকা/এনটি/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়