ঢাকা     মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৯ ১৪৩৩ || ২৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক ও গবেষণামুখী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৪, ১২ মে ২০২৬   আপডেট: ১৬:১৪, ১২ মে ২০২৬
উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতাভিত্তিক ও গবেষণামুখী করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মঙ্গলবার ইউজিসির আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান

উচ্চশিক্ষাকে সময়োপযোগী, গবেষণামুখী ও দক্ষতাভিত্তিক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তব্যে এ কথা বেলন প্রধানমন্ত্রী।

আরো পড়ুন:

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়নে গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন ও উদ্ভাবনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা কার্যক্রমে সরকার অর্থায়ন করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইদের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর অ্যালামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।”

উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্ব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের ঘাটতির কারণেই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, “নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়।”

উচ্চশিক্ষাকে সময়োপযোগী করতে সরকার উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি। বিভাগীয় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণার বাণিজ্যিকীকরণে প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে সিড ফান্ডিং ও ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, অটোমেশন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও বিগ ডাটার মতো প্রযুক্তি বিশ্বকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এসব প্রযুক্তি একদিকে প্রথাগত চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত করছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করছে।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমানে জ্ঞানচর্চা আর একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ডাটা সায়েন্স, বায়োলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমাজবিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।

ডিজিটাল অর্থনীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে ব্রিটিশ লেখক টম গুডউইনের বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই, ফেসবুক নিজে কোনো কনটেন্ট তৈরি করে না, আলীবাবার নিজস্ব কোনো স্টক নেই এবং এয়ারবিএনবির নিজস্ব কোনো রিয়েল এস্টেট নেই। ইনোভেটিভ আইডিয়াই আজ বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে।”

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, জ্ঞানভিত্তিক ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।”

বক্তব্যের শেষাংশে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন মামুন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়