ঢাকা     সোমবার   ০৮ জুন ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ২৫ ১৪৩৩ || ২৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

দেশে দৈনিক দুধ উৎপাদনে ঘাটতি ৬.৯০ মেট্রিক টন

বাকৃবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:০৭, ৮ জুন ২০২৬   আপডেট: ২০:০৮, ৮ জুন ২০২৬
দেশে দৈনিক দুধ উৎপাদনে ঘাটতি ৬.৯০ মেট্রিক টন

দেশে দুধ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও জাতীয় চাহিদা পূরণে এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হলেও প্রয়োজন ১৬ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এ অবস্থায় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুধের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপালন অনুষদের গ্রন্থাগারে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

আরো পড়ুন:

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্দশবারের মতো বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আটটি বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে দুধ পান করানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় চাহিদা প্রায় ১৬ দশমিক ২৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন। সে হিসেবে দেশে এখনও প্রায় ৬ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন দুধের ঘাটতি রয়েছে।

এছাড়া, দেশে বর্তমানে মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা প্রায় ২৩৯ মিলিলিটার, যেখানে একজন মানুষের দৈনিক প্রয়োজন ২৫০ মিলিলিটার। নারীদের ক্ষেত্রে এ চাহিদা আরো বেশি, প্রায় ৫০০ মিলিলিটার।

ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে দুধ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে জাতীয় চাহিদা পূরণে উৎপাদন আরো বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা বর্তমানে ২৩৯ মিলিলিটার হলেও প্রয়োজন ২৫০ মিলিলিটার। তাই তরল দুধের ঘাটতি পূরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রায়হান হাবিব বলেন, “নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে দুধের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে মাতৃত্বকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত দুধ পান প্রয়োজন। এ কারণেই এ বছরের বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘দুগ্ধশিল্পে নারী কৃষকদের অবদান উদযাপন’।”

তিনি জানান, দুগ্ধ খাতে নারীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর প্রথমবারের মতো একজন নারী দুগ্ধ খামারি এবং একজন নারী দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ উদ্যোক্তাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক এ. কে. এম. মাসুম জানান, দিবসটি উপলক্ষে ৯ জুন শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং হোম কিচেন ডেইরি রেসিপি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ১০ জুন অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সচেতনতামূলক সেমিনার, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

পশুপালন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন বলেন, “মানবদেহের বৃদ্ধি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানই দুধে বিদ্যমান। দেশের দুগ্ধশিল্পের টেকসই উন্নয়নে ডেইরি বিজ্ঞান শিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন এবং খাতটির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বিশ্ব দুগ্ধ দিবসের মূল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়া, দেশের বিশিষ্ট ডেইরি বিশেষজ্ঞ ও গবেষকেরা এতে অংশ নেবেন।

ঢাকা/লিখন/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়