Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

এসএস স্টিলের ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ প্রতিবেদন খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৫, ২ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৯:১১, ২ মার্চ ২০২১
এসএস স্টিলের ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ প্রতিবেদন খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে প্রকৌশলখাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এসএস স্টিলের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২০) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে সিকিউরিটিজ আইন ও আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস) লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্য পেয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। 

বিষয়টি এসএস স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) জানানো হয়েছে। ডিএসইর পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে এসএস স্টিলের জবাব যুক্তিযুক্ত না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে। 

ডিএসইর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে এসএস স্টিল আয়কর গণনার প্রয়োজনীয় বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি আন্তর্জাতিক হিসাব মানের কয়েকটি ধারা ((আইএএস)- ১২ এর ৪৬ ও ৮১(সি)) লঙ্ঘন করেছে।

এছাড়াও আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানি যে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকাশ করেছে, তা বিভ্রান্তিকর বলে মনে করে ডিএসই। কোম্পানিটির (আইএএস- ৩৩ এর ৬৬ অনুযায়ী) শুধু বেসিক ইপিএস ও ডাইলুটেড ইপিএস দেখানোর কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিটি সেখানে সমন্বিত ইপিএস দেখিয়েছে। বিধি অনুযায়ী সমন্বিত ইপিএস দেখানোর সুযোগ নেই। যদি সমন্বয় করার মতো কোনো ইপিএস থাকে, সেটাও সমন্বয় পরবর্তী বেসিক ইপিএস হবে। 

এসএস স্টিল কর্তৃপক্ষ শুধু ডিরেক্ট মেথডে নগদ প্রবাহ স্টেটমেন্ট তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বিএসইসির নির্দেশনার ধারা একটি ধারা (২০১৮ সালের ২০ জুন বিএসইসির জারি করা নির্দেশনার ধারা ৪(৪)(ই)) লঙ্ঘন করেছে। 

ডিএসইর পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, কোম্পানির আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকে ইপিএস কমেছে ২১.৫৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে ইপিএসের তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এর কারণ উল্লেখ করেনি। একইভাবে নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো হিসাবেও তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য হলেও এর কারণ উল্লেখ করেনি। ফলে কোম্পানিটি বিএসইসির একটি ধারা (২০১৮ সালের ২০ জুন বিএসইসির জারি করা নির্দেশনার ধারা ৪(১)) লঙ্ঘন করেছে।

এদিকে, কোম্পানিটি আয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস-১৮) প্রয়োগ করেছে। কিন্তু এই ধারাটি আগেই বিলুপ্ত করা হয়েছে। ইনিস্টিটিউট অব চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) এক নির্দেশনায়, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর আইএএস-১৮ এর পরিবর্তে আয়ের হিসাবে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস) ১৫ ব্যবহারের কথা বলেছে। যা ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। 

পাশাপাশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ রিলেটেড পার্টির সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে আর্থিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক হিসাব মানের ধারা (আইএএস-২৪ এর প্যারাগ্রাফ ১৮) লঙ্ঘন করেছে।

আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির বিষয়ে জানতে চাইলে এসএস স্টিল কোম্পানির সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে ডিএসই। সেই অনুযায়ী তাদের জবাব দেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এসএস স্টিলের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে ডিএসই বেশকিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। আমরা ডিএসইর পর্যবেক্ষণ ও কোম্পানির জবাব যাচাই করে দেখবো। কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

ঢাকা/বকুল 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে