ঢাকা     শনিবার   ১৫ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ১ ১৪৩১

পিপিপি পদ্ধতিতে দুই বস্ত্রকল চালুসহ ৫ প্রস্তাব অনুমোদন

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৬, ২৭ মে ২০২৪  
পিপিপি পদ্ধতিতে দুই বস্ত্রকল চালুসহ ৫ প্রস্তাব অনুমোদন

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন সীতাকুণ্ডের আরআর টেক্সটাইল ও রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে চালানো সংক্রান্ত দুটি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের তিনটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংস্কার ও সমন্বয় সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান। তিনি বলেন, ‘বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন সীতাকুণ্ডের আরআর টেক্সটাইল মিলটি পিপিপি ভিত্তিতে চালু করার লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আরআর টেক্সটাইল মিলটি ১৯৬৩ সালে ১৯.৪৮ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদনে ছিল। পরে মিলটি বন্ধ হয়। মিলটি পিপিপি ভিত্তিতে পুনরায় চালু করার প্রস্তাব ২০১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সিসিইএ সভায় নীতিগত অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হলে তিনটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে, যা কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। টিইসির নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশ করা সর্বোচ্চ স্কোর অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বেসরকারি অংশীদার মিলটির ভূমি ব্যবহার বাবদ আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম হিসেবে এককালীন ১০ কোটি টাকা এবং ৩ বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে পরবর্তী বছর থেকে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা বিটিএমসি-কে দেবে। চুক্তির মেয়াদ হবে ৩০ বছর, যা সন্তোষজনক মেয়াদান্তে নবায়নযোগ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্ধ মিলগুলো চালুর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, ‘বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন রাজশাহী টেক্সটাইল মিল পিপিপি ভিত্তিতে চালু করার লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। রাজশাহী টেক্সটাইল মিল ১৯৭৫ সালে ২৬.৩৪ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত উৎপাদনে ছিল। বন্ধ হওয়া মিলটি পিপিপি ভিত্তিতে পুনরায় চালু করার প্রস্তাব ১৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সিসিইএ সভায় নীতিগত অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হলে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব দাখিল করে, যা কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। টিইসির নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান চড়কা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদে চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর ফলে বেসরকারি অংশীদার মিলটির ভূমি ব্যবহার বাবদ আপফ্রন্ট প্রিমিয়াম হিসেবে এককালীন ৬ কোটি টাকা এবং ৩ বছর গ্রেস পিরিয়ড শেষে পরবর্তী বছর থেকে ১ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিটিএমসি-কে দেবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) সকল গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাওয়ার ইক্যুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড থেকে ‘ডিজাইন, সাপ্লাই, ইন্সটলেশন, টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটারস উইথ পিএলসি মডিউল অ্যান্ড থ্রি ইয়ার্স অপারেশনাল সাপোর্ট সার্ভিস ক্রয়’ কার্যটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বর্ণিত ক্রয়কার্যের আওতায় ৪০ হাজারটি সিঙ্গেল ফেজ মিটার, ৩২৫টি ডাটা কানেক্টর ইউনিট ক্রয় ও স্থাপন, বিদ্যমান পোস্টপেইড মিটার প্রতিস্থাপন এবং ৩ বছরের অপারেশনাল সাপোর্ট সার্ভিস নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত বাবিউবো’র ৫৭.৯৬ শতাংশ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মধ্যে বাবিউবো’র সব গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্মার্ট ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড থেকে ‘ডিজাইন, সাপ্লাই, ইন্সটলেশন, টেস্টিং অ্যান্ড কমিশনিং অব স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটারস উইথ পিএলসি মডিউল অ্যান্ড থ্রি ইয়ার্স অপারেশনাল সাপোর্ট সার্ভিস’ ক্রয় কার্যটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বর্ণিত ক্রয়কার্যের আওতায় ৪০ হাজারটি সিঙ্গেল ফেজ মিটার, ৩২৫টি ডিইউসি ক্রয় ও স্থাপন, বিদ্যমান পোস্টপেইড মিটার প্রতিস্থাপন এবং ৩ বছরের অপারেশনাল সাপোর্ট সার্ভিস নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত বাবিউবো’র ৫৭.৯৬ শতাংশ গ্রাহককে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হয়েছে।

সচিব জানান, হবিগঞ্জের বিবিয়ানা দক্ষিণ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘সাপ্লাই অব স্পেয়ার্স, কনজিউঅ্যাবলস অ্যান্ড সিডিউল মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কস ফর ৬ ইয়ার্স’ কার্যটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬৯৫ ঘণ্টা রানিং আওয়ার অতিক্রম করে। ২০২৩ সালের ২৭ জানুয়ারি তারিখ ইপিসি ঠিকাদারের ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সিডিউল মেইটেন্যান্স করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিভিন্ন মালামালের মূল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জার্মানির সিমেন্স। তাই, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ও জনস্বার্থে বিবিয়ানা দক্ষিণ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় হতে পারে ৬৪৯ কোটি ৭৯ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪ টাকা।

হাসনাত/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়