নেগেটিভ ইক্যুইটির তথ্য দেয়নি ২১ ট্রেকহোল্ডার, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসইসি
নুরুজ্জামান তানিম || রাইজিংবিডি.কম
পুঁজিবাজারে নেগেটিভ ইকুইটি ও আনরিয়ালাইজড লস সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার ঘটনায় ২১টি ট্রেকহোল্ডার বা ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা, দায়ী ব্যক্তি শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি এ বিষয়ে বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে একটি চিঠি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে পাঠিয়েছে বিএসইসি।
পুঁজিবাজারের সদস্যভুক্ত বাজার মধ্যস্থতাকারী ট্রেকহোল্ডার বা ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে থেকে সময়ে সময়ে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের তথ্য নিয়ে থাকে বিএসইসি। কিন্ত গত কয়েক দফায় ২১টি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান তাদের এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেনি, যা বিএসইসির নজরে এসেছে। তাই ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা, তথ্য না দেওয়া এবং অনিয়মের কারণ ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ২১টি ডিএসই ট্রেক হোল্ডার ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সমাপ্ত সময়ের নেগেটিভ ইক্যুইটি সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা বিএসইসির ১৪ মে, ২০২৫ জারিকৃত নির্দেশনার পরিপন্থী। কেবল একবার নয়-পূর্ববর্তী রিপোর্টিং সময়কালেও কিছু ইন্টারমিডিয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন না দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা নেগেটিভ ইক্যুইটি ও অবাস্তবায়িত ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্যের অখণ্ডতা, পূর্ণতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করে। এই ধরনের অনিয়ম বাজারে তথ্যের স্বচ্ছতা, পূর্ণতা ও নির্ভরযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা দুর্বল করে দিতে পারে।
তাই চিঠিতে ডিএসইকে তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, উল্লিখিত ট্রেক হোল্ডাররা কেন মাসিক প্রতিবেদন দাখিল করেনি তার নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা বা ব্যবস্থাপনা ব্যক্তিরা এই অননুবর্তিতার জন্য দায়ী—তা নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটি যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য ডিএসই কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিতে যাচ্ছে, তা জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, এসব অনিয়মকারী ট্রেকহোল্ডারদের পূর্ণ তালিকা, তাদের প্রতিবেদন দাখিলের অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যাসহ চিঠি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নেগেটিভ ইকুইটি ও আনরিয়ালাইজড লস সংক্রান্ত তথ্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এসব তথ্য নিয়মিত জমা না হলে বিনিয়োগকারী ঝুঁকি মূল্যায়ন কঠিন হয়ে পড়ে এবং বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কমিশনের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ট্রেক হোল্ডারদের আর্থিক রিপোর্টিং ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বাড়বে, বাজারে স্বচ্ছতা জোরদার হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত ১৩ জানুয়ারি ৯৯২ তম কমিশন সভায় আরো ১৪টি ব্রোকারেজ হাউসকে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের প্রভিশন সংরক্ষণ এবং সমন্বয়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে সময়সীমা বাড়িয়েছে বিএসইসি। ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্টক ব্রোকার-ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ৯৮৪তম কমিশন সভায় ২৮ প্রতিষ্ঠান, ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ৯৮৫তম কমিশন সভায় ৮ প্রতিষ্ঠান, ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯৮৬তম কমিশন সভায় ১১ প্রতিষ্ঠান, ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৯৮৮তম কমিশন সভায় ৭ প্রতিষ্ঠান এবং ২৪ ডিসেম্বর ৯৮৯ তম কমিশন সভায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লসের প্রভিশন সংরক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য শর্তসাপেক্ষে সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি।
ঢাকা/এনটি/এসবি