ঢাকা     বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ডিবিএর সাত প্রস্তাব

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:২২, ১ এপ্রিল ২০২৬  
আসন্ন বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ডিবিএর সাত প্রস্তাব

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে কর সংক্রান্ত সাত দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

দেশের পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এসব প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিবিএ মনে করছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও গভীরতা বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে বাজারে আস্থা ফিরবে।

প্রস্তাব-
১. লভ্যাংশের ওপর উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্যকরণ: বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর উৎসে কর কাটার পর আবার আয়কর রিটার্নে কর দিতে হয়। ফলে কার্যকর করহার অনেক ক্ষেত্রে ৪০.৫ শতাংশে পৌঁছে যায়। এতে স্পন্সর ও পরিচালকরা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণায় নিরুৎসাহিত হচ্ছেন এবং উচ্চ সম্পদশালী বিনিয়োগকারীরাও লভ্যাংশভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সকল ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশের ওপর উৎসে কর্তিত করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ। এতে কর কাঠামো সহজ হবে এবং দ্বৈত করের বোঝা কমবে বলে মনে করছে তারা।

২. কর রেয়াতের উদ্দেশ্যে অনুমোদনযোগ্য বিনিয়োগ সীমিত থাকায় মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত: মিউচুয়াল ফান্ড খাতে কর বৈষম্য দূর করার ওপরও জোর দিয়েছে ডিবিএ। বর্তমানে কর রেয়াত সুবিধার জন্য মিউচুয়াল ফান্ডে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ সীমা থাকায় খুচরা বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এই সীমা তুলে দিয়ে যেকোনো পরিমাণ বিনিয়োগকে কর রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল তহবিল প্রবাহ নিশ্চিত হবে এবং পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক গভীরতা বৃদ্ধি পাবে।

৩. মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে বৈষম্যমূলক করহার: আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে অর্জিত মূলধনী আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করহার প্রযোজ্য। অথচ মিউচুয়াল ফান্ড (ওপেন বা ক্লোজএন্ড), সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য সিকিউরিটিজে নিয়মিত করহার আরোপ করা হচ্ছে। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে হবে। তাই এই বৈষম্য দূর করে সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ ও ফান্ড ইউনিটের ক্ষেত্রে একই করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।

৪. টার্নওভারের ওপর কর্তিত উৎসে করকে (টিডিএস) বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য না করে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্যকরণ: শেয়ার লেনদেনের টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে কর (ট্যাক্স ডিডাক্টেড অ্যাট সোর্স-টিডিএস) বর্তমানে মিনিমাম ট্যাক্স হিসেবে গণ্য হওয়ায় লোকসান হলেও ব্রোকারেজ হাউসকে কর দিতে হচ্ছে। এই অবস্থার টার্নওভারের ওপর কাটা উৎসে করকে মিনিমাম ট্যাক্স না ধরে অ্যাডভান্স ট্যাক্স হিসেবে গণ্য করে বার্ষিক আয়কর রিটার্নে প্রকৃত কর দায়ের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ প্রদানের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর চাপ কমবে।

৫. ইকুইটি মাইনাস অ্যাকাউন্টের জন্য কর ছাড়: লোকসানগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নেগেটিভ ইকুইটি অ্যাকাউন্টে কর ছাড়ের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ইন্টারেস্ট ওয়েভার, ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটাল গেইনের ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি এবং বিদ্যমান ১০ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে সক্রিয় হতে পারবেন।

৬. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত করা: ইক্যুইটি আইপিও ইস্যুর ক্ষেত্রে ‘ডিমড-টু-বি লিস্টেড কোম্পানি’ কাঠামো প্রবর্তন যোগ্যতার মানদণ্ড চালুর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিশোধিত মূলধন, ১০০০ কোটি টাকা বা তার বেশি বার্ষিক টার্নওভার, ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি ব্যাংক ঋণ এবং যেসব প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ১০ কোটি টাকার বেশি ট্যাক্স ইনসেনটিভ ট্যাক্স বেনিফিট বা ক্যাশ ইনসেন্টিভ উপভোগ করে-এমন কোম্পানিগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা যেতে পারে। পাশাপাশি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে উৎসাহ দিতে নির্দিষ্ট শর্তে নীতিগত প্রণোদনার কথাও বলা হয়েছে।

৭. নিষ্ক্রিয় তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর সুবিধা বাতিল: যেসব কোম্পানি গত ৩ বছরে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করেনি এবং গত ৩ বছরে লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি-তাদের করহার অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সমান করহার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিষ্ক্রিয় কোম্পানি নিরুৎসাহিত হবে এবং বাজারে সক্রিয় ও মানসম্পন্ন কোম্পানি থাকবে।

ঢাকা/এনটি/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়