ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৯ ||  ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

মাদক, নারীঘটিত কারণেই নোবেলের সঙ্গে থাকি না:  সালসাবিল

আমিনুল ইসলাম শান্ত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ২৮ আগস্ট ২০২১   আপডেট: ১৩:৪১, ২৮ আগস্ট ২০২১
মাদক, নারীঘটিত কারণেই নোবেলের সঙ্গে থাকি না:  সালসাবিল

বিতর্কের অন্য নাম ‘সারেগামাপা’খ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেল। কয়েক দিন আগে এক মেয়ে বন্ধুর সঙ্গে তার মাদক নেয়ার ছবি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় তোলপাড়। গুঞ্জন রয়েছে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছেন নোবেল। বান্দরবান ট্যুরে গিয়েও বিতর্কিত কাণ্ডে খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই গায়ক। সব মিলিয়ে নোবেলের দাম্পত্য জীবনেও তৈরি হয়েছে টানাপড়েন। এসব বিষয়ে এই প্রথম খোলামেলা কথা বলেছেন নোবেলের স্ত্রী সালসাবিল মাহমুদ।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: একটা মেয়ের সঙ্গে নোবেলের তোলা ছবি অন্তর্জালে ভাইরাল… 

সালসাবিল মাহমুদ: যেদিন বান্দরবান যায় সেদিনও সারাদিন ভিডিও কলে আমার সঙ্গে যুক্ত ছিল নোবেল। যাত্রাবাড়ী পৌঁছানোর পরও ভিডিও কলে সে দেখিয়েছে তার সঙ্গে চারজন ছেলে যাচ্ছে। কিন্তু কোথা থেকে এই মেয়ে তার সঙ্গে যুক্ত হলো আমি জানি না। এরপর আমার সঙ্গে আর নোবেলের কোনো কথা হয়নি। কারণ নোবেলের ফোনে যোগাযোগ করতে পারিনি।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: যে মেয়ের সঙ্গে নোবেল বান্দরবান গিয়েছেন সে কি আপনার পরিচিতি? 

সালসাবিল মাহমুদ: এই মেয়ের নাম জেবা। এর আগেও মেয়েটির সঙ্গে তোলা ছবি নোবেল আপলোড করেছিল। জেবা এয়ার হোস্টেজ। চাকরির আড়ালে মেয়েটা বিভিন্ন স্থানে মাদক আনা-নেওয়া করে। নোবেল-জেবা দুজনেই মাদকাসক্ত। তারা একসঙ্গে মাদক সেবন করে। 

আমিনুল ইসলাম শান্ত: আপনি নোবেলের স্ত্রী। মেয়েটির সঙ্গে মিশতে তাকে বাধা দেননি?

সালসাবিল মাহমুদ: বিষয়টি নজরে আসার পর আমি নোবেলকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করি। মেয়েটার খোঁজখবর নেই। জেবার ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সে বলেছে, ‘জেবা নামমাত্র চাকরি করে। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত। যেমন: মাদকা, দেহব্যবসা ইত্যাদি। ওকে বোন পরিচয় দিতেও আমারে লজ্জা লাগে। এসব কাজ থেকে সরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু পারিনি।’

এরপর নোবেলকে আমি বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। নোবেল তখন বলেছে, আর কখনো মেয়েটির সঙ্গে কথা বলবে না। তারপর আমি বেশ কিছু দিন মেয়েটির সঙ্গে নোবেলকে কথা বলতে দেখিনি। লুকিয়ে লুকিয়ে যদি বলে থাকে তাহলে ভিন্ন বিষয়। এ সময় নোবেল নেশাও করেনি। আমি ধরে নিয়েছিলাম, নোবেল ঠিক হয়ে গেছে। 

আমিনুল ইসলাম শান্ত: আপনি কী মনে করেন জেবার সঙ্গে নোবেল প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন?

সালসাবিল মাহমুদ: বান্দরবানে নোবেলের সঙ্গে আরো গিয়েছিল শোভন ভাই, বাপ্পী ভাই, নিশাল ভাই। ওরা বান্দরবান থেকে ফিরে আসতে চাচ্ছিল। নোবেল ও জেবাকেও ফিরে আসতে বলেছিল। কিন্তু ওরা আসেনি।  নিশাল নোবেলের কাজিন। সে ওদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিল- নোবেল বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছে, বাসের ড্রাইভারকে মারতে গিয়েছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় যা হয় আরকি!এগুলো ঠিক হচ্ছে না। সুতরাং ঢাকা ফিরতে হবে। তখন জেবা নিশালকে মারতে যায়। তারপরও নিশাল নোবেলকে রেখে আসতে চায়নি। কিন্তু নোবেল ফিরে আসেনি। প্রাপ্তবয়স্ক দুজন ছেলেমেয়ে একই হোটেলে থাকছে, তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হওয়াটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এ কাজ তারা বহুদিন ধরেই করছে।

এই ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নতুন বিতর্ক

আমিনুল ইসলাম শান্ত: মাদক সেবন, একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ আপনি করছেন। এগুলো কি নোবেল বিয়ের আগেও করেছে?

সালসাবিল মাহমুদ: হ্যাঁ, বিয়ের আগেও নোবেল এসব কাজ করেছে। এমনকি বিয়ের পরেও। বিয়ের পরে যেটা হতো— কোনো মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর, সেই সম্পর্ক যখন ভেঙে যাওয়ার পর্যায়ে যেত তখন জানতে পারতাম। কারণ ওই সময়ে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হতো। নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানোর সময় নোবেল ওই মেয়েকে বলতো, আমার বউকে ডিভোর্স দিয়ে তোমাকে বিয়ে করব। সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক কন্টিনিউ করতো। কিন্তু যখনই মেয়েটি বিয়ের কথা বলতো তখন টালবাহানা করতো নোবেল। তারপর ওই মেয়েরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতো। স্ক্রিন শট পাঠাতো। একাধিক মেয়ে আমাকে বলেছে, ‘নোবেলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কও করেছে। কিন্তু নোবেল এখন আমাকে চিনতেও পারছে না। একটা মেয়ে মোহাম্মদপুর থানায় জিডি করেছিল। বিয়ে করবে না কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও লিক করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এই মেয়েটিকে ব্ল্যাকমেইল করতো নোবেল। মেয়েটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিল (১৭ বছর)। পরে থানায় জিডি করে। শুধু তাই নয়, মোহাম্মদপুর থানা থেকে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিল।           

আমিনুল ইসলাম শান্ত: নোবেলের সঙ্গে আপনি কি আলাদা থাকছেন?

সালসাবিল মাহমুদ: আমরা বিবাহিত কিন্তু একসঙ্গে থাকি না। মাদক সেবন, নারীঘটিত কারণেই মূলত নোবেলের সঙ্গে থাকি না। একের পর এক এরকম ঘটনা হলে একজন মানুষের সঙ্গে থাকা যায় না। মাদক বা নারীর প্রতি নোবেলের আসক্তি যে পর্যায়ে গেছে তা এখন আর কারো অজানা নয়। সবকিছু সবার সামনেই ঘটছে। 

আমিনুল ইসলাম শান্ত: এত কিছু জানার পরও আপনি কেন নোবেলকে বিয়ে করলেন?

সালসাবিল মাহমুদ: বিয়ের আগে আমি কিছু জানতাম না। বিয়ের আগে নোবেল বলেছিল, ছোটবেলায় একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। পরে আরেকটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয় ওর। কিন্তু মেয়েটি ওর সঙ্গে প্রতারণা করে। ওর জীবনে সম্পর্ক বলতে এ দুটোই! আমার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর পর নোবেল কোনো দিন খারাপ দৃষ্টিতেও আমার দিকে তাকায়নি। কখনো আমার হাত ধরেনি। বরং সরাসরি বিয়ের কথাই বলেছে। বিয়ের পর এক মাস পর্যন্ত আমদের মাঝে শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। তা হলে আমি কীভাবে বুঝব ও একটা খারাপ ছেলে! আর মাদকাসক্তের ব্যাপারটা আমি জানতাম না।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: কয়েক মাস আগে নোবেল অভিযোগ করেছিলে আপনি ভ্রুণ হত্যা করেছেন…

সালসাবিল মাহমুদ: আমি তো বেবি কনসিভ করিইনি! নষ্ট করব কোথা থেকে? তবে নোবেল এবং ওর পরিবার সব সময় বেবি চেয়েছে। এ নিয়ে ওরা আমাকে চাপও দিয়েছিল। কিন্তু আমি বেবি নিতে চাইনি। কারণ আমি চেয়েছি, নোবেল আগে ঠিক হোক। এ পরিস্থিতিতে বেবি নেওয়া ঠিক হবে না। এভাবে তো মানুষ চলতে পারে না। আর এই অভিযোগ যখন করেছিল, ওই সময়ে আমার পিরিয়ড দেরিতে হওয়ায় নোবেল ধরে নেয় আমি কনসিভ করেছি। আমি বিষয়টি নোবেলকে জানানোর জন্য নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পারিনি।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: এসব বিষয়ে নোবেলের বাবা-মা কিছু বলেন না?

সালসাবিল মাহমুদ: না, তারা কখনো নোবেলকে কিছু বলেন না। মাদক সেবন, বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, বাসায় মেয়ে নিয়ে আসা- সব কিছু নোবেলের বাবা-মা জানেন। এমনকি নোবেলের মা বাসায় থাকাবস্থায় নোবেল বিভিন্ন ধরনের মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসতো। কোন মেয়ের সঙ্গে নোবেলের শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে তাও ওর বাবা-মা জানেন। ফেসবুকে মাদক সেবনের ছবি পোস্ট করার পর তো কোনো রাখঢাক থাকে না। এটা নিশ্চয়ই নোবেলের বাবা দেখেছেন। এখনো তারা কিছু বলেন না। বরং সাপোর্ট দিচ্ছেন।

নোবেল ও জেবা 

আমিনুল ইসলাম শান্ত: আপনাদের বিয়ের বিষয়ে নোবেলের বাবা-মা জানতেন? 

সালসাবিল মাহমুদ: আমাদের বিয়ের সময় নোবেলের বাবা-মা দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। তারা দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের বিয়ে দিয়েছেন। সেদিনের সব ছবি আমার কাছে আছে।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: বান্দরবানের ঘটনা, আপনার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি কি নোবেলের বাবা-মাকে জানিয়েছেন?

সালসাবিল মাহমুদ: আমি ফোন করে কিছু জানাইনি। নোবেলের আত্মীয়-স্বজন, আমাদের কমন ফ্রেন্ড ফোন করে জানিয়েছেন। কিন্তু এতে কোনো লাভ নেই। কারণ আমরা সবাই জানি, নোবেলের এসব কার্যকলাপে ওর বাবা-মায়ের সম্পূর্ণ সাপোর্ট রয়েছে। শোভন ভাই নোবেলের সঙ্গে বান্দরবান গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, নোবেলের মা ব্যাগ গুছিয়ে জেবা আর নোবেলকে বলেছে— তোমরা ট্যুরে যাও। এ নিয়ে শোভন ভাই ছি ছি করছেন। একটি সন্তান জন্মগতভাবে খারাপ হয় না। তার পরিবার যখন ঠিকমতো শাসন বা দিকনির্দেশনা না দিতে পারে তখনই সে এই পর্যায়ে যায়।

আমিনুল ইসলাম শান্ত: আপনি এতদিন চুপ ছিলেন কেন?

সালসাবিল মাহমুদ: আমি চাইনি নোবেলের ক্যারিয়ার নষ্ট হোক। আপনাকেই প্রথমবার এসব বলছি।  এখন দেখি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো পদক্ষেপ নেয় কিনা। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি অপেক্ষা করছি।

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়