ঢাকা     শুক্রবার   ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ||  পৌষ ১৮ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

নিউ ইয়ার রেজুলেশন: পক্ষে-বিপক্ষে তারকারা

বিনোদন ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:০৭, ২ জানুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১২:১২, ২ জানুয়ারি ২০২৬
নিউ ইয়ার রেজুলেশন: পক্ষে-বিপক্ষে তারকারা

ছবির কোলাজ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। নতুন বছরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন উদ্যমে সামনে এগোনোর প্রতিজ্ঞা করেছেন মানুষ। অন্য অনেকের মতো শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও ‘নিউ ইয়ার রেজুলেশন’ অর্থাৎ নতুন বছরে কী করবেন আর কী করবেন না, তার তালিকাও তৈরি করে থাকেন। ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনয়শিল্পীরাও কী ‘নিউ ইয়ার রেজুলেশন’ তৈরি করে থাকেন? চলুন জেনে নিই—

শুভাশিস মুখোপাধ্যায়
এই নিউ ইয়ার রেজুলেশন এর বিষয়টা না কোনোদিনও আমার মাথায় ঢুকল না। অনেকেই তো এটা নেয়, রাখতে পারে কজন? তার উপর নতুন বছরের শুরুতে নিউ ইয়ার রেজুলেশন নিলে বাকি বছরে কি নেওয়া যাবে না? কারণ প্রতিদিনই তো আমাদের লড়াই করে বাঁচতে হচ্ছে। নতুন নতুন শিক্ষা দিচ্ছে জীবন, সেসব অনুভব করার পর রেজুলেশন তো বদলে যাবেই। অন্তত বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ১ জানুয়ারি নিউ ইয়ার রেজুলেশন নিলে পয়লা বৈশাখেও আমরা  নিউ ইয়ার রেজুলেশন নেব না কেন?  জানুয়ারিতে নেওয়াটা ইংরেজরা চালু করেছিল বলে নাকি? আচ্ছা, তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, বাংলা নববর্ষেও নিউ ইয়ার রেজুলেশন নেব, তাহলে এতগুলো প্রতিজ্ঞা রাখতে পারব তো নাকি হিমশিম খাব? এ প্রশ্নের উত্তর আপনারাই দিন। আমি যা করি, মুহূর্তে বাঁচি। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা। অবশ্যই নিজের কিছু মূল্যবোধ রয়েছে, যা পারিবারিক শিক্ষা, চেতনা এবং জীবনের শিক্ষা থেকে পাওয়া, সেগুলো থেকে সরে যাই না। সেসবের উপর ভিত্তি করেই যাপন করি জীবন।

আরো পড়ুন:

কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়
আমার সারা জীবনের কিছু রেজুলেশন আছে। সৎভাবে জীবনযাপন করা, যারা আমার উপর নির্ভরশীল তাদের যত্ন করা। অবশ্যই, কুকথায় কর্ণপাত না করে নিজের কাজে আরো মন দিয়ে করে যাওয়া। একই সঙ্গে চেষ্টা করি, যতটা সম্ভব বিনয়ী হয়ে লোকসমাজে ভদ্র থাকা। অভিনয়ের পাশাপাশি আমার জীবনে গান গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সারাদিন কাজের পর যেটুকু সময় পাই গান-সিনেমার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখি। কারণ আমার মতে, পরনিন্দা করা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কাজ। যাইহোক, প্রেক্ষাগৃহে ঘনঘন গিয়ে উঠতে পারি না। প্রায় প্রতিদিন অনেকটা সময় ধারাবাহিকের শুটিং থাকে। তবে সারা সপ্তাহে আমি তিনটি থেকে চারটি সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ নিয়ম করে দেখি ওটিটি-তে। দেখবই! এটা আমার প্রতি সপ্তাহের রেজুলেশন বলতে পারেন।

লাবণী সরকার 
দেখুন, ক্যালেন্ডার, নতুন বছরের হিসেবে তো মানুষেরা নিজের স্বার্থে নিয়ম হিসেবে ঠিক করেছি এবং সেই হিসাব মেনে চলি। এটি না থাকলে প্রতিটি দিনই তো আনকোরা নতুন। খালি চোখে একদিনের সঙ্গে আরেক দিনের তফাৎ কী?  তাই, কোনোকালেই নিউ ইয়ার রেজুলেশন আমার নেওয়া হয়ে ওঠেনি। জানিয়ে রাখি, আমি প্রতিদিনই নিজস্ব রেজুলেশন নিই। সেগুলো কী? প্রকৃতির যতটা কাছে থাকা যায়, সেখান থেকে পজিটিভ ভাইবস নেওয়া, যে যে ভুলগুলো করেছি আজকে সেগুলো যেন আগামীকাল না করি। কোন ব্যাপারে রেগে যাচ্ছি, সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া, নিজের চিন্তাভাবনাগুলোর বাস্তবায়ন করার চেষ্টা প্রতিদিন—এই ব্যাপারগুলো প্রতিদিন নিয়ম করে মেনে চলার চেষ্টা করি। আর হ্যাঁ, প্রতিদিন আমি কোনো না কোনো পজিটিভ উক্তি পড়ি, সেটা বাংলা অথবা ইংরেজিতে।

অর্জুন চক্রবর্তী
ছোটবেলা থেকে কখনো নিউ ইয়ার রেজুলেশন সেভাবে পালন করা হয়নি। মানে, বাবা-দাদু ডাক্তার হওয়া সত্ত্বেও খুবই সাধারণভাবে বেড়ে ওঠা আমার। আমার মতে, রেজুলেশন তারা করে যারা অন্যভাবে বড় হয়েছেন। ধরুন, এইরকম কাজ করে অস্বস্তি হচ্ছে, মনে হচ্ছে ভুল করেছি সুতরাং আর করব না এসব কাজ। এসব জায়গা থেকেই রেজুলেশন নেওয়া হয়। আমার জীবনে এমন কিছু হয়নি, যাতে মনে হয়েছে আর করব না। তবে হ্যাঁ, এমন কিছু করা হয়ে ওঠেনি বা করব করব করছি সেটা এইবেলা করে ফেলব, সেরকম কিছু ইচ্ছে অবশ্যই আছে আমার। যেমন ধরুন, কারো সঙ্গে বাজে ব্যবহার করে ফেলেছি, কোনো চেনা মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারিনি, সেগুলো শোধরানোর চেষ্টা করব। তাছাড়াও ধরুন, বাড়িতে বেশ কিছু নতুন কেনা বই পড়ে আছে, সেগুলো ঝটপট পড়া শুরু করতে হবে, এখনো কত ভালো ভালো আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা দেখা বাকি, সেগুলো দেখে ফেলতে হবে সময় করে। অনেকদিন রাজস্থান যাওয়া হয়নি, রাজস্থানে আমার পূর্বপুরুষের আদি বাড়ি। সেখানে গিয়ে একটু সময় কাটাব এই বছর। আমার ক্লাস টু-এর চারজন বন্ধু ছিল, দু’জন মারা গিয়েছেন আর বাকি দু’জন বেঁচে রয়েছেন। সেই বন্ধুদের সঙ্গে বসে আড্ডা মারব, গল্প-হাসি ভাগ করব এই বছরেই।

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়