সিডনির আঙিনায় শেষ গোধূলি: ব্যাট তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন খাজা
উসমান খাজা
যে মাঠে প্রায় দেড় দশক আগে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে সাদা পোশাকে যাত্রা শুরু করেছিলেন, ঠিক সেই সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই (এসসিজি) বৃত্ত পূর্ণ করতে যাচ্ছেন উসমান খাজা। সিডনির ২২ গজেই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলতে নামার ঘোষণা দিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই অস্ট্রেলীয় ওপেনার। অ্যাশেজ সিরিজের সমাপ্তির সাথে সাথেই ক্রিকেটের রাজকীয় ফরম্যাট থেকে বিদায় নেবেন আধুনিক ব্যাটিংয়ের এই অন্যতম ‘ক্ল্যাসিক’ কারিগর।
পরিবারের সান্নিধ্যে এক টুকরো আবেগ
শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) সিডনিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যখন খাজা কথা বলছিলেন, পাশে বসেছিলেন স্ত্রী র্যাচেল, দুই আদুরে কন্যা এবং গর্বিত পিতা। দৃশ্যটি কেবল একজন ক্রিকেটারের অবসর ঘোষণা ছিল না, ছিল এক দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসানের চিত্র।
উসমান খাজা বলেন, “এই সিরিজ শুরুর আগেই র্যাচেলের সাথে বিষয়টি নিয়ে অনেক কথা বলেছি। জানতাম, সময়টা ঘনিয়ে আসছে। যদিও কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড আমাকে আগামী ভারত সফরের জন্য চেয়েছেন। কিন্তু, আমি নিজের শর্তে এবং মাথা উঁচু করে প্রিয় মাঠ সিডনি থেকে বিদায় নিতে চেয়েছি।”
চড়াই-উতরাই ও প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য
উসমান খাজার ক্যারিয়ার ছিল অনেকটা মরুভূমির মাঝে মরূদ্যানের মতো। কখনো প্রচণ্ড খরা, কখনো আবার রানের ফোয়ারা। এবারের অ্যাশেজ সিরিজেও পিঠের চোট আর দল থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় কেটেছে অনেকটা সময়। তবে মাঠের ভেতরে যেমন ধৈর্যশীল ছিলেন, মাঠের বাইরেও তাই। ৮৭ টেস্টের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৬ হাজারের বেশি রান এবং ১৬টি সেঞ্চুরির মালিক খাজা গত চার বছর ছিলেন অজি ব্যাটিংয়ের প্রধান স্তম্ভ।
সমালোচনার তীরে বিদ্ধ এক যোদ্ধা
অবসর ঘোষণার দিনে খাজার কণ্ঠে কিছুটা আক্ষেপও ঝরে পড়ল। ফর্মহীনতায় থাকাকালীন তাকে নিয়ে হওয়া ‘স্বার্থপর’ তকমা বা কেন তিনি সরছেন না; এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন স্পষ্ট ভাষায়।
খাজা বলেন, “আমি কখনোই জোর করে ঝুলে থাকতে চাইনি। লোকে যখন আঙুল তোলে যে, আমি স্বার্থপর হয়ে দলে রয়েছি, সেটা আমার জন্য খুব অস্বস্তিকর ছিল। অথচ নির্বাচক এবং কোচ বারবার আমাকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ আর গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য থেকে যেতে বলেছিলেন। আমি কখনোই নির্বাচকদের দয়ায় নয়, নিজের সামর্থ্যে টিকে থাকতে চেয়েছি।”
এক নজরে উসমান খাজার পরিসংখ্যান
টেস্ট ম্যাচ: ৮৭* (সিডনি টেস্টসহ)।
মোট রান: ৬০০০+*।
সেঞ্চুরি: ১৬টি।
সিডনি টেস্টের শেষ ইনিংসে যখন খাজা প্যাভিলিয়নে ফিরবেন, তখন কেবল সিডনি নয়, গোটা ক্রিকেট বিশ্বই দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাবে এক লড়াকু যোদ্ধাকে। যিনি আমাদের শিখিয়েছেন, অপেক্ষা আর পরিশ্রম করলে ভাগ্যদেবতা ঠিকই সুপ্রসন্ন হন।
ঢাকা/আমিনুল/রফিক