বেড়েছে চাল ও চিনির দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
চাল, চিনি, মাছ, সবজি
রমজান মাসে আসতে আরো দেড় মাস বাকি। এরইমধ্যে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করছে চিনি ও চালের দাম। সাধারণ ক্রেতারা বলছে, এখনই দাম বাড়তে শুরু করলে রোজার মাসে কী অবস্থা হবে সেটা বলার বাকি রাখে না।
বিক্রেতারা বলছেন, সম্প্রতি চিনির দাম বাড়তে শুরু করছে কিন্তু বিগত কয়েক মাস ধরে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। এখন খোলা ও মোড়কজাত উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেড়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজার ও নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খোলা ও মোড়কজাত চিনির দাম বেড়েছে। এখন বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ টাকা। মোড়কজাত চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, যা গত সপ্তাহ আগে ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা।
বাজারে নাজিরশাইল চালসহ অন্যান্য চালের দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের চালের দাম গড়ে তিন থেকে চার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়, বিভিন্ন ব্রান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭২ থেকে ৭৪ টাকা। মাঝারি মানের ব্রি-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। স্বর্ণা ও গুটি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।
এদিকে, বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজসহ অন্যান্য সবজির দাম। এখন দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। দেশি পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে, সিম ৪০ টাকা, মূলা ২০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শালগম ৪০ টাকা, কাঁচমরিচ ৮০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৩০ টাকা এবং প্রতি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। রসুন (দেশি) ১৭০ টাকা ও আদা ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ সপ্তাহে বাজারে স্বাভাবিক হয়েছে মাছ মুরগি ও ডিমের দাম। বাজারে এখন মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্বাভাবিক হয়েছে মুরগির দাম। গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহে ও বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়।
রাজধানীর নিউমার্কেটে সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রশিদা আক্তার বলেন, “কয়েক মাস চালের বাজার স্থিতিশীল থাকার পর আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে। আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য হঠাৎ করে চালের দাম বাড়াটা দুঃসংবাদ। চিনির দামও বাড়তি দেখলাম। রমজান মাস না আসতেই চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। আমরা সাধারণ ক্রেতারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। কোন সরকারের আমলেই ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙ্গা হয়নি।”
কারওয়ানবাজারের চালের আড়ৎদার আজাদ ব্যাপারি বলেন, “কিছু কিছু জাতের চালের দাম সামান্য বেড়েছে। আমদানি বাড়লে চালের দাম আবার কমবে। খোলা পোলাওয়ের চালের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়।”
ঢাকা/রায়হান/এস