কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশি তথ্যচিত্র
১৫তম কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য নির্বাচিত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের মানবিক প্রভাব তুলে ধরে নির্মিত বাংলাদেশি তথ্যচিত্র ‘টোকেন বাই দ্য রিভার’। এটি পরিচালনা করেছেন মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ।
তথ্যচিত্রটি সিআইএফএফ-এর ‘বিউটিফুল প্ল্যানেট’ প্রোগ্রামে প্রদর্শিত হবে, যেখানে পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো তুলে ধরা হয়।
নমপেনে ২৪ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য কম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান স্বাধীন চলচ্চিত্র মঞ্চ। আয়োজকরা বলছেন, ২০২৬ সালের সংস্করণে ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে ১৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, যা বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা, সমালোচক এবং দর্শকদের আকর্ষণ করবে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশ। দেশটির নদী ভাঙন এলাকার মানুষের কঠিন বাস্তবতা, অভিবাসী ও উদ্বাস্তু অবস্থা এবং শহুরে অনিশ্চিত জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে ৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘টোকেন বাই দ্য রিভার’ তথ্যচিত্রে।
পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “এই স্বীকৃতি সেই জনগোষ্ঠীর প্রাপ্য, যাদের গল্প আমরা তুলে ধরেছি। তাদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়; এটি এক বর্তমান বাস্তবতা। প্রতিটি বর্ষা মৌসুম অনিশ্চয়তা নিয়ে আসে।”
এর আগে বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন বিভাগে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার, ‘২০২৫ কভারিং ক্লাইমেট নাউ জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ড’ জিতেছে ‘টেকেন বাই দ্য রিভার’। পরিবেশ সাংবাদিকতা ও তথ্যচিত্রের গল্প বলার উপর কেন্দ্র করে বিভিন্ন ফোরামে এটি প্রদর্শিত হয়েছে।
তথ্যচিত্রটি ইউরোপীয় চলচ্চিত্র উৎসব ‘লাইফ আফটার অয়েল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৫’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। আফ্রিকান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ভার্সিটি ফিল্ম এক্সপো ২০২৪-এ ‘শ্রেষ্ঠ তথ্যচিত্র পুরস্কার’ লাভ করেছে এটি।
গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী দ্বারা গঠিত ঘনবসতিপূর্ণ ব-দ্বীপ রাষ্ট্র বাংলাদেশ বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং নদীভাঙনসহ ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। সরকারি ও গবেষণাভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, শুধু নদীভাঙনের কারণেই প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, যাদের অনেকেই অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হন।
চলচ্চিত্রটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আখ্যানের মিশ্রণ ঘটিয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহনশীলতা তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করে।
ফেস্টিভ্যালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের বাইরেও জলবায়ু-আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে আরও জোরালো করার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, “নদীভাঙনকে প্রায়শই একটি স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এটি বৈশ্বিক জলবায়ু বিন্যাসের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। এই গল্পগুলো একটি বৈশ্বিক দর্শকের প্রাপ্য।”
ঢাকা/শান্ত