ঢাকা     শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১১ ১৪৩৩ || ৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি নিয়ে মাহবুবুল খালিদের গান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩১, ২৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১২:৩৪, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনা ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল, সকাল পৌনে ৯টায় সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে ‘রানা প্লাজা’ নামের বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। এতে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন, আহত হন আরো কয়েক হাজার, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। ওই ঘটনায় কেবল বাংলাদেশ নয়, কেঁপে উঠেছিল সারা বিশ্ব। বিশ্বের ভয়াবহতম শিল্প দুর্যোগের একটি হিসেবে এরই মধ্যে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে ওই ভবন-ধসের ঘটনা। 

‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডি নিয়ে স্বনামধন্য কবি, গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ রচনা করেছেন ‘ধ্বংস হলো রানা প্লাজা’ শিরোনামে একটি গান। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্তি। ঘটনাবহুল দিনে মাহবুবুল খালিদের গানটি মুক্তি পেয়েছে; যা ভীষণ প্রাসঙ্গিক। এটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা যেমন মনে করিয়ে দেয়, তেমনই সচেতনতার আহ্বান জানায়।  

আরো পড়ুন:

“ধ্বংস হলো রানা প্লাজা/ বিশ্ব মুখে পড়লো কালির লেপন/ শত শত জীবন দিলো পঙ্গু হলো/ ছিলো যারা বড়ই আপন॥/ দেখেছিলো স্বপ্ন ওরা/ গড়বে জীবন সোনায় মোড়া/ তারে ঢাকলো কালো ছায়ায়/ মিশলো রে সব ধ্বংস ধুলা মরিচিকায়/ বড়ই লোমহর্ষক হৃদয় বিদারক/ ভাঙলো সুখের স্বপন॥/ মুখে হাসি কর্মে আশীষ/ তারাই হইলো বেওয়ারিশ/ আজো যারা রইলো বেঁচে রইলো বিবেকবান/ তারা কি হইবে না সাবধান।/ পায় না যেন কোনো আপনজন/ এমন ভাগ্য কুপন॥”—এমন আবেগঘন কথামালায় গানটির কথামালা সাজিয়েছেন গীতিকবি মাহবুবুল খালিদ। 

গানটির সুর করেছেন প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। কণ্ঠ দিয়েছেন মেহেদি হাসান, লুইপা, নোশিন তাবাসসুম স্মরণ। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এটি মুক্তি পেয়েছে গীতিকবির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ও ‘খালিদ সংগীত’-এর ইউটিউব ও ফেসবুক পেজে।  

মাহবুবুল খালিদের সৃষ্টির মূল শক্তি তার মানবিক অবস্থান। নির্যাতিত, অবহেলিত মানুষের পক্ষে কথা বলাই যেন তার শিল্পচর্চার প্রধান লক্ষ্য। দেশপ্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, জনসচেতনতা কিংবা খেলাধুলা—বিভিন্ন বিষয় তার গানে ও কবিতায় জায়গা করে নেয় স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্যে। গণসংগীত থেকে লোকগীতি, হামদ-নাত, শিশুতোষ গান, দেশাত্মবোধক সুর, প্রেম-বিরহ কিংবা আধ্যাত্মিক ভাবনা—সব ক্ষেত্রেই তার বিচরণ সহজ ও সাবলীল।  

সমাজের বাস্তব ঘটনাগুলো তার সৃষ্টিকে বারবার তীক্ষ্ণ ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। রাজধানীর মিরপুরে নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে লেখা ‘আদুরি’ যেমন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, তেমনই সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে লেখা ‘ফেলানীরে করল গুলি’ গানটি নাড়া দেয় মানুষের বিবেককে। মাগুরার শিশু আছিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ‘মাগুরার ফুল’ গানে তিনি তুলে ধরেছেন সমাজের অন্ধকার মুখ।   

শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও ধরা দিয়েছে তার গানে। ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে লেখা তার গান মানবতার পক্ষে শক্ত ও স্পষ্ট অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। সব মিলিয়ে, মাহবুবুল খালিদের সৃষ্টি শুধু বিনোদন নয়; এটি সময়ের দলিল, প্রতিবাদের ভাষা এবং মানুষের পক্ষে এক দৃঢ় শিল্পীস্বর।

ঢাকা/রাহাত/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়