Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ১৮ এপ্রিল ২০২১ ||  বৈশাখ ৫ ১৪২৮ ||  ০৫ রমজান ১৪৪২

এবারের বইমেলা অপরিণত: টোকন ঠাকুর

আমিনুর রহমান হৃদয় || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:২২, ৬ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ০৮:৩৭, ৬ এপ্রিল ২০২১

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন শুরু হয় বইমেলা। মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার গত ১৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। এই সংকটের মাঝেও বইমেলায় এসেছিলেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুর। ঘুরে ঘরে মেলা দেখেছেন, কিনেছেন বইও। তারই ফাঁকে রাইজিংবিডির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

টোকন ঠাকুর বলেন, ‘করোনা সংকটের কারণে ফেব্রুয়ারির বইমেলা মার্চ-এপ্রিলে নিয়ে এলো বাংলা একাডেমি, বাংলা বাজারের কিছু সৃজনশীল প্রকাশক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। মূলত এই তিন পক্ষের মিলিত সিদ্ধান্তে এই বইমেলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কর্তৃত্ব কাদের বেশি যদিও তা বোঝা যায় না। আমি প্রথমে বলেছিলাম, এবারের বইমেলা একটি দোদুল্যমানতা বইমেলা। কারণ ফেব্রুয়ারিতে শীতের চাদর গায়ে জড়িয়ে আমরা বইমেলায় এসে থাকি। কিন্তু এবার সেই অভ্যাসের বাইরে চলে গেলাম।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে টোকন ঠাকুর বলেন, ‘এপ্রিলের দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেমন রোদ আর গরম পড়বে তা মেলা বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল না। কারণ তারা মেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন এসি রুমে বসে। মোট কথা মেলা কমিটির ধারণাটা ঠিক ছিল না। এ কারণে মেলার সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে। শীতের চাদর গায়ে না দিয়ে গরমে ঘামতে ঘামতে কেন বইমেলায় আসব? এই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। গত ২৭ বছর ধরে অমর একুশে বইমেলায় নিয়মিত। কিন্তু এবারের বইমেলা আমার পছন্দসই বইমেলা নয়। মনে হয়েছে, অপরিণত বইমেলা, কাঁচা বালকদের সিদ্ধান্তে হওয়া বইমেলা এটা।’ 

ক্ষুদ্র প্রকাশকরা লোকসানের মুখে পড়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে টোকন ঠাকুর বলেন, ‘কয়েকটি বড় প্যাভিলিয়নের বই বেচাকেনা দিয়ে পুরো বইমেলা বিচার করা যাবে না। অনেক ক্ষুদ্র প্রকাশক আছে, যারা সারা বছরের পুঁজি এই বইমেলায় বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু এখনো তাদের খরচের অর্ধেকও ওঠেনি। এখন কলকারখানা যদি খোলা থাকে, তারচেয়ে মেলার পরিসর অনেক বেশি, অনেক বেশি নিরাপদ। তারপরও যদি মেলা বন্ধ করতেই হয় তবে এই ইনটেনশন কর্তৃপক্ষের।’  

এবারের বইমেলায় টোকন ঠাকুরের নতুন কোনো বই প্রকাশিত হয়নি। তার কারণ জানিয়ে কবি টোকন ঠাকুর বলেন, ‘বিদ্যা প্রকাশ, দিব্য প্রকাশ, পাঠক সমাবেশ, প্রথমা, সব্যসাচী প্রকাশনী—এসব প্রকাশনীতে আমার বই আছে। কিন্তু এবারের বইমেলার জন্য পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করিনি। কারণ একটাই বইমেলার সময় পরিবর্তন। আমি বুঝতে পেরেছিলাম এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি যেতে পারব না। কারণ তারা ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। মেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যে ভুল, তা এক মাসের মধ্যে প্রমাণিত।’

ঢাকা/শান্ত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়