RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৩ ১৪২৭ ||  ১৩ রজব ১৪৪২

শ্যামলীর স্বপ্নপূরণে আপনিও পাশে দাঁড়াতে পারেন 

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১১, ২০ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ২০:৩১, ২০ জানুয়ারি ২০২১
শ্যামলীর স্বপ্নপূরণে আপনিও পাশে দাঁড়াতে পারেন 

শ্যামলীর মা আলো রানী

বিকল্প বিভিন্ন জিনিসে বাজার সয়লাব। কুটির শিল্পে জড়িত মানুষগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। জীবন বাঁচাতে বিকল্প জীবিকার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন অনেকেই। নতুন কাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই ছিটকে পড়ছেন। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আরো অসহায় হয়ে পড়ছেন তারা।

ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের সিংগাইড় উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের ঋষিপাড়ার দূরত্ব মাত্র ৩৭ কিলোমিটার। এখানে ৪৫টি পরিবারের জীবন চলে বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের মাধ্যমে। বাঁশ দিয়ে তারা ডালি, কুলা, চালুন, ঝুড়ি, টুকরিসহ নানা ধরনের জিনিস বানান। গ্রামের নাম ‘ঋষি পাড়া’। ঋষিদের তৈরি পণ্যের কদর দেশজুড়ে স্বীকৃত। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছেও বাঁশের তৈরি হস্তশিল্পের আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে বিকল্প পণ্য বাজারে থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষগুলো এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

যদিও সাত পুরুষের পেশা অনেকেই ধরে রেখেছেন। তেমনই একজন আলো রানী। তিনি বলেন, ‘বাপের হাতে ডালি, কুলা, চালুন, ঝুড়ি ও ডুলি বাঁধা শিখেছি। স্বামীর সংসারে এসেও একই কাজ করছি। এতদিন সংসারের কাজের পাশাপাশি স্বামীকে সাহায্য করতাম। এখন পুরো সংসারের ভার নিজেকেই বইতে হচ্ছে।’

আলো রানীর স্বামী মারা গেছেন। দুই ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে সংসার। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলে আর মেয়ে তাকে কাজে সহযোগিতা করলেও আরেক ছেলে পেশা বদল করেছে। সে এখন ভ্যান চালক।

কথাপ্রসঙ্গে জানা গেল, আলো রানীর ছোট মেয়ে শ্যামলী রানী পড়ালেখায় ভালো। তার খুব ইচ্ছে পড়ালেখা করার। কিন্তু টাকার অভাবে সম্ভব হয়ে উঠছে না। মেয়েটি ঢাকার মিরপুরে একটি কলেজে ডিগ্রি পড়ছে। বাড়ি থেকে ঢাকা গিয়ে কলেজ করা কষ্টকর। এ অবস্থায় মেয়েটির স্বপ্নপূরণ অনেকটাই অসম্ভব। ফলে মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ চিন্তায় আছেন আলো রানী। তিনি বলেন, ‘আমরা এমনিতেই গরিব। কোনো সহৃদয় মানুষ যদি মেয়ের পড়ালেখার জন্য সাহায্য করতো তাহলে হয়তো স্বপ্নপূরণ হতো।’

ইনসেটে শ্যামলী রানী 

‘দেখতে শ্যামলা ছিলাম বলেই মা আমার নাম রেখেছিলেন শ্যামলী।’ নিজের সম্পর্কে শ্যামলী আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, ‘আমি আমাকে ভালো করেই জানি। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে যুদ্ধ করছি। সংসারে মাকে সাহায্যও করতে হচ্ছে। কারণ বৃদ্ধা মা’র পক্ষে সংসার চালানো কষ্টকর। তবে সংসারের কাজ করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন।’

বংশপরম্পরায় এই পেশা সম্পর্কে শ্যামলী বলেন, ‘এ পেশা আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ পেশায় থাকা সম্ভব হচ্ছে না। বাঁশের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেভাবে আমাদের তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়েনি। একটি বাঁশের দাম প্রায় ১০০ টাকা। একটি বাঁশে তিনটি টুকরি হয়। সপ্তাহে বড় জোর ৩০ থেকে ৩৫টি টুকরি বানানো যায়। প্রতিটি টুকরি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করি। এতে পরিশ্রমের দামও ওঠে না।’

টুকরিগুলো বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও রয়েছে সমস্যা। বেপারিরা টুকরি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। অনেক সময় বাকিতেও দিতে হয়। দিনের পর দিন টাকা বেপারিদের কাছে পড়ে থাকে। নিজেরা সরাসরি ক্রেতার হাতে পণ্য তুলে দিতে পারলে শ্যামলীরা দাম আরো বেশি পেতেন। বিড়ম্বনাও কমতো।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাইলে শ্যামলী বলেন, ‘আমাদের আসলে ভালো কোনো স্বপ্ন দেখতে নেই। যদিও ইচ্ছে করে আরো পড়ালেখা করে সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার। কিন্তু এই দিবা স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়া আমার দ্বারা আর হবে না।’ নিজের স্বার্থের জন্য, স্বপ্নের জন্য মাকে কষ্ট দিতে চান না বলেও জানান শ্যামলী।

হাসনাত/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়