৬ শতাধিক বছরের দুর্লভ পাণ্ডুলিপিতে সমৃদ্ধ অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি
শাহীন রহমান, পাবনা || রাইজিংবিডি.কম
আজ থেকে ৬ শতাধিক বছর আগের হাতে লেখা দুর্লভ তালপাতার পাণ্ডুলিপি, শতবর্ষী হাজারো গ্রন্থ, থরে থরে সাজানো পত্রিকা ও সাময়িকীসহ প্রায় ৩৮ হাজার বইয়ের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি।
প্রাচীন ও সমৃদ্ধ এই লাইব্রেরিটি জ্ঞানপিপাসুদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এক বিশেষ আকর্ষণের নাম। ১৩৬ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী লাইব্রেরিটি শুধু একটি পাঠাগার নয়, বরং পাবনার সংস্কৃতি, ইতিহাস ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার এক জীবন্ত স্মারক।
ভাষার মাস উপলক্ষে লাইব্রেরিটির উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করা হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী। রোববার বিকেলে জেলার প্রবীণ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে লাইব্রেরির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠান।
অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে এবং অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ, এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান, বনমালী শিল্পকলা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা বেগম রোখসানা ডেইজি, জেলা কালচারাল অফিসার মারুফা মঞ্জরি খান সৌমি প্রমুখ।
লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে বাংলা, ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, উর্দু, আরবি, ফারসি ছাড়াও বুলগেরিয়ান, নরওয়েজিয়ান, ইতালিয়ান, রুশ, তুর্কি, চীনা, ইরানি ও পালি সাহিত্যের বিরল সব গ্রন্থ। পাশাপাশি রয়েছে কয়েক হাজার পত্রিকা, জার্নাল ও লিটল ম্যাগাজিন। লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরোনো গ্রন্থটি হলো ১৭৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সেইন্টস এভারলাস্টিং রেস্ট’।
দেশ-বিদেশের গবেষক ও জ্ঞানান্বেষীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হলো লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি। তালপাতা ও কাগজে রচিত এসব দুর্লভ দলিল অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিকে দিয়েছে অনন্য মর্যাদা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর মো. কামরুজ্জামান বলেন, “এ ধরনের লাইব্রেরি বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। এটি জ্ঞানপিপাসু মানুষের জন্য একটি দর্শনীয় ও শিক্ষণীয় কেন্দ্র হতে পারে। সবারই উচিত এই গ্রন্থাগার পরিদর্শন করা।”
লাইব্রেরির অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খান জানান, “উপমহাদেশের মধ্যে এটি একটি বড় সংগ্রহশালা। সংবাদপত্র, সাময়িকী, লিটল ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে ৬শ’ বছরের পুরোনো তালপাতার পাণ্ডুলিপি—সবই এখানে সংরক্ষিত। প্রতি বছরের মতো এবারও এসব দুর্লভ সংগ্রহ সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী শেষ হবে।”
উল্লেখ্য, ১৮৯০ সালে পাবনার তাঁতিবন্দের জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা উপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বংশধর অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরী শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ১৩ শতাংশ জমির ওপর এই ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।
ঢাকা/লিপি