আজ ‘জাতীয় রসুন দিবস’
সাতসতেরো ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: সংগৃহীত
আজ ‘জাতীয় রসুন দিবস’—প্রতিদিনের খাবারের পরিচিত সঙ্গী রসুন আজ বিশেষ গুরুত্ব পায়, হয়ে ওঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বজুড়ে নানা সংস্কৃতির রান্নায় রসুনের ব্যবহার এতটাই স্বাভাবিক যে, অনেক সময় এর আলাদা গুরুত্ব চোখে পড়ে না। অথচ ছোট্ট এক কোয়া বহন করে হাজার বছরের ইতিহাস, স্বাদ আর লোকজ বিশ্বাসের ঐতিহ্য। খাদ্যপ্রেমীদের কাছে এই দিনটি তাই পরিচিত উপাদানকে নতুন দৃষ্টিতে দেখার এক উপলক্ষ।
ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মধ্য এশিয়ায় রসুনের ব্যবহার শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে সাধারণ মানুষের খাবারে এর কদর কম থাকলেও সৈন্যদের শক্তি বাড়াতে রসুন খাওয়ানো হতো—এমন উল্লেখ পাওয়া যায়।
পরবর্তী সময়ে ইউরোপের মধ্যযুগ ও রেনেসাঁ যুগে ধীরে ধীরে রান্নায় রসুনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। প্রথমে এটি নিম্নবিত্তের খাদ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও উনবিংশ শতাব্দীতে পেশাদার রন্ধনশিল্পীরা এর স্বাদ ও ঘ্রাণের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। এরপর ইতালীয়, ফরাসি ও ভূমধ্যসাগরীয় রান্নায় রসুন হয়ে ওঠে অপরিহার্য উপাদান।
রসুনকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথাও। ইউরোপীয় বিশ্বাসে এটি অশুভ শক্তি বা ভ্যাম্পায়ার দূরে রাখার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো—যা আজও জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও রসুনের প্রতি মানুষের আগ্রহ প্রবল। অনেকেই মনে করেন, এটি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ফল পেতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, ‘জাতীয় রসুন দিবস’ শুধু একটি খাদ্য উপাদানের উদযাপন নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্বাদের এক চমৎকার মেলবন্ধন। তাই আজকের দিনে রান্নায় একটু বেশি রসুন যোগ করে এর স্বতন্ত্র ঘ্রাণ ও স্বাদকে নতুনভাবে উপভোগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন খাদ্যপ্রেমীরা।
ঢাকা/লিপি