ঢাকা     বুধবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১২ ১৪২৮ ||  ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চীনাদের হাতে গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার উইঘুর নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  
চীনাদের হাতে গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার উইঘুর নারীরা

চীনের শিনজিয়াংয়ের তথাকথিত ‘প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ আটক উইঘুর মুসলিম নারীরা গণধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার। বুধবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সাবেক বন্দি ও এক জন প্রহরি বন্দি শিবিরে তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন বিবিসির কাছে। 

তারসানায়া জিয়উদুন নামে এক সাবেক বন্দি জানান, তাকে ৯ মাস বন্দিশিবিরে রাখা হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং তিন বার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। প্রত্যেকার দুই বা তিন জন তাকে ধর্ষণ করতো।

বন্দিশিবির থেকে মুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান।

তিনি জানান, কারাগার থেকে প্রত্যেক রাতে নারীদের বের করে নেওয়া হতো। মুখোশ পরিহিতি এক বা একাধিক চীনা পুরুষ তাদের ধর্ষণ করতো। 

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিনজিয়াং থেকে আসা এক কাজাখ নারী জানিয়েছেন, তাকে ১৮ মাস বন্দিশিবিরে আটক রাখা হয়েছিল। তাকে উইঘুর নারীদের নগ্ন করতে এবং হাতকড়া পরাতে বাধ্য করা হতো। এই নারীদেরকে এই অবস্থাতেই চীনা পুরুষদের কাছে পাঠানো হতো। পরে তিনি গিয়ে ওই কক্ষ পরিষ্কার করতেন।

গুলজিরা আউয়েলখান নামের ওই কাজাখ নারী বলেন, ‘আমার কাজ ছিল তাদের কাপড় কোমরের ওপর থেকে সরিয়ে ফেলা এবং হাতকড়া পরানো যাতে তারা নড়াচড়া করতে না পারে। পরে নারীদেরকে কক্ষে ছেড়ে আসতে হতো এবং এক জন পুরুষ প্রবেশ করতো। কিছু চীনা পুরুষ কিংবা পুলিশ সদস্য বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতো। সামনের দরজায় আমি নীরবে বসে থাকতাম এবং পুরুষটি যখন বের হয়ে যেতো তখন আমি নারীটিকে স্নানের জন্য নিয়ে যেতাম।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে সুন্দর তরুণ বন্দিকে বেছে নেওয়ার জন্য চীনা পুরুষরা অর্থ দিতো।’

কিছু প্রাক্তন বন্দিকে নিরাপত্তা প্রহরিদের সহায়তার জন্য বাধ্য করা হতো। এর ব্যতিক্রম হলে ওই বন্দিদের শাস্তির মুখে পড়তে হতো। আউলেখান জানান, প্রহরিদের বাধা দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই তার ছিল না।

নারীদের সংগঠিতভাবে ধর্ষণ করা হতো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যা, ধর্ষণ। তারা আমাকে কক্ষে যেতে বাধ্য করতো। তারা আমাকে ওই সব নারীর কাপড় খুলতে এবং তাদের হাত ধরে রাখতে বাধ্য করতো এবং কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতো।’ 

জিয়াউদিন জানান, কিছু নারীকে রাতে তাদের সেল থেকে রেব করে নিয়ে যেতো এবং এরা আর কখনোই ফিরে আসেনি। যাদেরকে ফিরিয়ে আনা হতো তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলা হতো, যা ঘটেছে তা যেন কখনোই অন্য বন্দিদের কাছে প্রকাশ না করে।

তিনি বলেন, ‘কি ঘটেছে আপনি তা কাউকে বলতে পারবেন না, আপনাকে স্রেফ নীরবে শুয়ে থাকতে হবে। সবার মানসিক শক্তি ধ্বংস করতে এটি করা হতো।’

 

ঢাকা/শাহেদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়