ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৬ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ১৩ ১৪৩২ || ৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

কাশ্মীর সফরে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন মোদি

কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:০১, ৬ জুন ২০২৫   আপডেট: ১৮:১৫, ৬ জুন ২০২৫
কাশ্মীর সফরে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন মোদি

‘পহেলগাঁওয়ে হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে দাঙ্গা বাঁধানো। কিন্তু কাশ্মীরবাসীই গোটা বিশ্বকে বার্তা দিয়ে দিয়েছে, যে সন্ত্রাসবাদকে যোগ্য জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।” পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর প্রথমবার জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শুক্রবার (৬ জুন) জম্মু-কাশ্মীরের কাটরায় একাধিক প্রকল্প উদ্বোধন করেন মোদি। আর সেই মঞ্চ থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। স্পষ্ট বলেন, “পাকিস্তান শুধু মানবতা নয়, পর্যটন এবং কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের রুজি-রুটিরও বিরোধী।”

আরো পড়ুন:

এদিন মোদির ভাষণে উঠে আসে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আদিল আহমেদ শাহের নামও।

ভাষণে মোদি বলেন, “পাকিস্তান মানবতা আর কাশ্মীরিয়ত দুটোর উপরই আঘাত করেছে। ওদের উদ্দেশ্য ছিল দেশে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেওয়া। কিন্তু কাশ্মীরবাসী গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসপন্থিদের কড়া বার্তা দিয়েছে। কাশ্মীরের মানুষ এখন সন্ত্রাসকে যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত।” 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “ওদের (পাকিস্তানের) উদ্দেশ্য ছিল, কাশ্মীরের মেহনতি মানুষের রোজগার রুখে দেওয়া। যে পর্যটনে কাশ্মীরবাসীর সংসার চলে, সেটাকেই পাকিস্তান নিশানা করেছিল। ঘোড়াওয়ালা থেকে ছোট ব্যবসায়ী, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের টার্গেট ছিল সকলেই। আতঙ্কবাদকে চ্যালেঞ্জ করা আদিলও ওই খেটে খাওয়া মানুষেরই প্রতিনিধি ছিল।”

জম্মুতে বিশ্বের উচ্চতম রেল সেতুর উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে এদিন উন্নয়নের বার্তাই দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীরকে সন্ত্রাসের কবল থেকে মুক্ত করাটা অত্যন্ত জরুরি ছিল। আমরা সেটা করতে পেরেছি। আজ কাশ্মীরের যুবকরা একটি উন্নত রাজ্য দেখে খুশি। আমি জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নে কোনো বাধা আসতে দেব না। কোনো বাধা এলে মোকাবিলা করবে সরকার।” 

কাটরায় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আজ আমি চেনাব ব্রিজ এবং অঞ্জি ব্রিজ উদ্বোধন করেছি। এর পাশাপাশি দুটি নতুন বন্দে ভারত ট্রেনও পেল জম্মু ও কাশ্মীর। জম্মুতে একটি নতুন মেডিকেল কলেজও উদ্বোধন করা হয়েছে। ৪৬ হাজার কোটি রুপির এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়নে নবজোয়ার আনবে। বৈষ্ণোদেবীর আশীর্বাদে কাশ্মীর ভারতের রেল নেটওয়ার্কে জুড়ে গেল। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর যোগসূত্র এবার রেল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। এটা কাশ্মীরের নতুন ক্ষমতার প্রতীক। এই রেলপথ কাশ্মীরের উন্নয়নকে নতুন গতি দেবে। জম্মু ও কাশ্মীরের লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “মানুষ আইফেল টাওয়ার দেখতে যায়। কিন্তু এটা আইফেল টাওয়ারের থেকেও উঁচু। এই সেতু পর্যটনের রাস্তাও খুলে দেবে। চেনাব এবং অঞ্জি ব্রিজ জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতিকে নতুন গতি দেবে। পর্যটন তো বাড়বেই, একই সঙ্গে অর্থনীতির অন্যান্য দিকও খুলে যাবে। কাশ্মীরের আপেল এবার অনায়াসে গোটা দেশে পৌঁছবে। কাশ্মীরের শাল সহজে দেশের অন্যান্য প্রান্তে পৌছবে।”

প্রসঙ্গত, বিশ্বের উচ্চতম ব্রিজ চেনাব সেতুর উধামপুর-শ্রীনগর-বারামুলার মধ্যে রেল যোগাযোগের একটি অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। এই রেলপথের মাধ্যমে কাশ্মীরকে গোটা ভারতের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

পাশাপাশি এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদি আরো দুটি বন্দেভারত এক্সপ্রেস ট্রেনেরও উদ্বোধন করেন। এগুলো শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী কাটরা এবং শ্রীনগরের মধ্যে যাতায়াত করবে। পরিকল্পনা ছিল প্রায় দেড় মাস আগে উদ্বোধন হবে। কিন্তু এপ্রিলের ১৯ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচি থাকলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় সেদিন তা স্থগিত হয়ে যায়। পরে ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলা হয়। এরপর পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অপারেশন সিঁন্দুর শুরু করে ভারত। ফলে আবারো পিছিয়ে যায় উদ্বোধন। 

সেনা অভিযানের পরও কাশ্মীরে পর্যটকদের ফেরানো এবং কাশ্মীরবাসীর মধ্যে আস্থা ফেরানো, দুটোই বর্তমানে চ্যালেঞ্জ কেন্দ্র ও জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য সরকারের কাছে। সেই লক্ষ্যেই শুক্রবার চেনাব ব্রিজ এবং শ্রীনগর-কাটরা রেলপথের উদ্বোধনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে। আবার পহেলগাঁও হামলার পর এই প্রথম কাশ্মীরে সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। 

প্রধানমন্ত্রী এটা ভালো করেই জানেন, একমাত্র উন্নয়নই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ব্রিজটির উদ্বোধন করে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সেটার উপর হাঁটতেও দেখা যায় মোদিকে। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা উপস্থিত ছিলেন।

সুচরিতা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়