জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ৬৬টি সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও গণতন্ত্র রক্ষায় সহযোগিতার প্রধান ফোরামগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউজ থেকে শেয়ার করা এক প্রেসিডেন্সিয়াল বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি কোন কোন সংস্থা, কনভেনশন ও চুক্তি, তা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, “এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় অংশগ্রহণ বন্ধ করবে এবং তাদের সব অর্থায়নও বাতিল করবে।”
হোয়াইট হাউজের শেয়ার করা তালিকায় ৩৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি), ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার।
হোয়াইট হাউজের তালিকায় আইপিসিসিকে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দেখানো হয়েছে, কিন্তু আইপিসি মূলত জাতিসংঘের একটি সংস্থা। সংস্থাটি জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত গবেষণা করে থাকে।
এছাড়া হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, তারা ৩১টি জাতিসংঘ সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি সংস্থা (ইউএনএফসিসিসি), জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল (ইএন ডেমোক্র্যাসি ফান্ড) এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা শীর্ষ সংস্থা ইউএনএফপিএ। তালিকায় এমন বেশ কিছু সংস্থা রয়েছে যারা যুদ্ধকালীন ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে কাজ করে, যেমন- সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়।
বুধবার সন্ধ্যায় এক বার্তায় জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানান, জাতিসংঘ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে এই ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচ), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদের শাসনামলেও এই তিনটি সংস্থা ত্যাগ করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে জো বাইডেনের প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করেছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রত্যাহার ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২৬১ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছিল, যা যক্ষ্মা এবং কোভিড-১৯-এর মতো বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৮ শতাংশ। এছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে বাইডেন আমল থেকে শুরু হওয়া মার্কিন অর্থায়ন নিষেধাজ্ঞাও ট্রাম্প প্রশাসন অব্যাহত রেখেছে।
ঢাকা/ফিরোজ