যুক্তরাষ্ট্রের কাছে চেচনিয়ার প্রেসিডেন্টকে ‘অপহরণের’ অনুরোধ জেলেনস্কির
চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভকে অপহরণ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, এই পদক্ষেপ চেচনিয়ার মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলেনস্কি এই মন্তব্য করেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের উচিত রাশিয়ার ওপর আরো ‘চাপ’ প্রয়োগ করা। তার মতে, এটি ইউক্রেন সংঘাত থামাতে সহায়ক হবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরামর্শ দেন যে, আলোচনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কাদিরভকে অপহরণ করতে পারে। জেলেনস্কি ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের পদক্ষেপ এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার প্রশংসা করেন।
জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, “পুরো বিশ্ব এর ফলাফল দেখতে পাচ্ছে। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এটি দ্রুত করেছে। ঠিক আছে, তবে তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কাদিরভের বিরুদ্ধেও কোনো ধরনের অভিযান চালাক... হয়তো তখন পুতিন এটি দেখবেন এবং বিষয়টি নিয়ে ভাববেন।”
চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট এর দ্রুত জবাব দিয়ে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তিনি আলোচনার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করার পরিবর্তে তা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন। একইসাথে কাদিরভ তাকে আমেরিকানদের পেছনে লুকিয়ে না থেকে ‘সাহস দেখিয়ে’ নিজের শক্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কাদিরভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেন, “এই ভাঁড় মার্কিন কর্তৃপক্ষকে আমাকে অপহরণ করার পরামর্শ দিচ্ছে। খেয়াল করুন, একজন সত্যিকারের পুরুষের মতো সে নিজে এটি করার হুমকিও দেয়নি। এমনকি সে এই চিন্তাটি মনেও আনেনি। (জেলেনস্কি) কাপুরুষের মতো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সে নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে একপাশে বসে তা দেখতে আপত্তি করবে না।”
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক হামলা চালায়, রাজধানী কারাকাসে বোমাবর্ষণ করে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দি করতে বিশেষ বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে।
মাদুরো ও তার স্ত্রীকে এরপর মাদক পাচারসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি করতে নিউ ইয়র্কে স্থানান্তর করা হয়েছে। মাদুরো সব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলা আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিচালনা’ করবে। পাশাপাশি তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের কথা মতো না চললে তাকে আরো ‘বড় মূল্য’ দিতে হবে।
রদ্রিগেজ বলেছেন, তার দেশ ‘কখনোই অন্য কোনো সাম্রাজ্যের উপনিবেশে পরিণত হবে না’, তবে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘সহযোগিতার’ বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ঢাকা/ফিরোজ