ঢাকা     শুক্রবার   ০৬ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২১ ১৪৩২ || ১৬ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৮, ৫ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২২:৪১, ৫ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত

হরমুজ প্রণালিতে হামলায় নিহত ভারতের বিহারের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার এবং মুম্বাইয়ের বাসিন্দা দীক্ষিত সোলাঙ্কি।

ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের মধ্যে হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) জানিয়েছে, নিহত দুজন হলেন বিহারের ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার এবং মুম্বাইয়ের দীক্ষিত সোলাঙ্কি। একই জাহাজে কর্মরত রাজস্থানের আরেক নাবিক দলিপ সিং নিখোঁজ রয়েছেন।

আরো পড়ুন:

হামলার শিকার তেলবাহী জাহাজটির নাম স্কাইলাইট অয়েল ট্যাঙ্কার, যেটি পালাউয়ের পতাকা বহন করছিল। জাহাজটি ওমান উপসাগরের মুসানদাম পেনিনসুলার কাছে হামলার শিকার হয়। স্থানটি খাসাব বন্দরের প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল উত্তরে।

ওমানের সামুদ্রিক নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ২০ জন নাবিক ছিলেন; এর মধ্যে ১৫ জন ভারতীয় এবং পাঁচজন ইরানি। হামলার পর সব নাবিককে উদ্ধার করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তবে সংস্থাটি এখনো স্পষ্ট করে বলেনি কোন ধরনের অস্ত্র দিয়ে বা কীভাবে জাহাজটিতে আঘাত করা হয়েছিল।

এর আগে একই এলাকায় ওমানের ডুকম বন্দরেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার পরপরই এই নতুন হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই ভারতীয় সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দুজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের একজন আশীষ কুমারের মরদেহ জাহাজের ক্যাপ্টেনের কেবিন থেকে উদ্ধার করা হয়।

তার ভাই আকাশ কুমার জানান, আশীষ কুমার ২০ জানুয়ারি মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দেন এবং তার প্রথম নিয়োগ ছি দুবাইয়ে।

পরে ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি ওমানগামী স্কাইলাইট অয়েল ট্যাঙ্কার জাহাজে ওঠেন। জাহাজটির আইএমও নম্বর ৯৩৩০০২০ এবং সেখানে তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা দিক্ষীত সোনাঙ্কি কয়েক মাস পরিবারের সঙ্গে কাটানোর পর আবার দায়িত্বে যোগ দিয়েছিলেন।

রাজস্থানের নাগৌর জেলার খিনওয়াতানা গ্রামের বাসিন্দা দীলিপ সিং ২২ জানুয়ারি কাজে যোগ দেন এবং তেলবাহী জাহাজে ক্রু সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানায়, হামলার সময় সিং জাহাজের সামনের অংশে আশীষ কুমারের সঙ্গে ছিলেন।

ক্যাপ্টেন আশীষের জন্য অপেক্ষায় ছোট ছেলে
বিহারের বেত্তিয়াহ এলাকার বাসিন্দা ক্যাপ্টেন আশীষ কুমার ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়। তার বাবা অশোক কুমার পেশায় একজন আইনজীবী এবং মা সুনীতা দেবী গৃহিণী।

আশীষের স্ত্রী অনশু কুমারী এই ঘটনায় ভেঙে পড়েছেন। আর তাদের পাঁচ বছর বয়সি ছেলে ডাকশ কুমার এখনো বাবার ফেরার অপেক্ষায় আছে।

ক্যাপ্টেন আশীষ কুমারের ভাই শুভম কুমার এনডিটিভিকে জানান, রবিবার (১ মার্চ) তারা প্রথম হামলার খবর পান সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে।

শুভম বলেন, “আমরা নিশ্চিত ছিলাম না যে যে জাহাজে হামলা হয়েছে সেটিই কি সেই জাহাজ, যেখানে ভাইয়া (আশীষ) কাজ করছিল।”

তিনি জানান, গত রাতে তেলবাহী জাহাজ স্কাইলাইট অয়েল ট্যাঙ্কারের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এরপর পরিবারটি ওমানে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

এনডিটিভি লিখেছে, পরিবারের সদস্যরা বলেন, গতকাল (বুধবার) পর্যন্ত আমরা তাকে নিখোঁজ মনে করছিলাম কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) তার মৃত্যুর খবর পুরো পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে।

শুভম এনডিটিভির মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকর এবং বিহার রাজ্য সরকারের কাছে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মুম্বাইয়ের কান্দিভলি এলাকার দিক্ষীত সোনাঙ্কির পরিবার এখন গভীর শোকে রয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই তারা পরিবারের দ্বিতীয় সদস্যকে হারাল। গত বছরের শেষদিকে তিনি মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে বাড়িতে এসেছিলেন এবং যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে আবার কাজে যোগ দেন। দিক্ষীতের বাবা ও বড় বোন তার শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

এদিকে রাজস্থানের নাগৌর জেলার বাসিন্দা দীলিপ সিংয়ের বাড়িতেও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তিনি একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে কাজ করতেন। খবরে বলা হয়েছে, ১ মার্চ সকালে ওমানের একটি বন্দরে জাহাজটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

সেই সময় জাহাজের সামনের অংশে তিনি আশীষ কুমারের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারকে কোম্পানি জানিয়েছে, তিনি তখন থেকে নিখোঁজ, তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

হরমুজ প্রণাণি কেন গুরুত্বপূর্ণ
হরমুজ প্রণালি হলো পারস্য উপসাগরের সরু প্রবেশমুখ, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন হয়।

এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা তেলবাহী জাহাজগুলো মূলত সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান থেকে তেল ও গ্যাস বহন করে।

এই তেলের বড় অংশই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।

ঢাকা/রাসেল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়