আটকানোর চেষ্টা ব্যর্থ, ইরান যুদ্ধের আইনি ভিত্তি পেলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন না- এমন প্রস্তাব তোলা হয়েছিল প্রতিনিধি পরিষদে। তবে ফল হয়েছে উল্টো। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। অর্থাৎ ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা পেয়ে গেছেন ট্রাম্প।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছিল। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ পরিচালনার বিরোধিতা করে প্রস্তাবটি আনা হলেও তা নাকচ হয়ে গেছে।
ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির বিপক্ষে ২১৯ জন এবং পক্ষে ২১২ জন আইনপ্রণেতা ভোট দেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। এতেই ট্রাম্প অনুগামীরা ভোটাভুটিতে জিতে গেছেন। যদিও দুজন রিপাবলিকান প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির চারজন আইনপ্রণেতা দলীয় অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। এতেই সাত ভোটে প্রত্যাখ্যান হয় প্রস্তাবটি।
প্রস্তাবটির বিরোধীরাদের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা মূলত ট্রাম্পের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই বিষয়টি সামনে এনেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ঝুঁকি আরো বাড়াতে পারে। বিতর্কের সময় রিক ক্রফোর্ড বলেন, “আমরা সবাই জানি, প্রেসিডেন্টের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প না হলে আজ আমরা এখানে থাকতাম না।”
অন্যদিকে প্রস্তাবের সমর্থকেরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকার কথা। সেই সাংবিধানিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব আনা হয়েছিল।
এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও এমন একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। সেখানেও ট্রাম্পের পক্ষ জিতে গেছে। সিনেটের ১০০ ভোটের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে যায় ৪৭টি এবং বিপক্ষে পড়ে ৫৩টি।
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটের ব্যবধান যতই কম হোক, ইরানে হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পকে আর কখনো আইনি ঝামেলায় পড়তে হবে না।
আরেকটি বিষয়ও নেমে গেল ট্রাম্পের কাঁধ থেকে। ডেমোক্র্যাটরা বলছিলেন, ইসরায়েলের জন্য ইরান যুদ্ধে নেমেছেন ট্রাম্প। সেই অভিযোগ শুনতে হলেও আইনিভাবে দায়মুক্তি পাবেন তিনি।
সংখ্যার মারপ্যাঁচে ট্রাম্প আইনি বৈধতা পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের এই ইস্যুতে রায় নেই। আন্তর্জাতিক সব জরিপ সংস্থার ফলাফলে দেখে গেছে, প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের ইরান হামলার বিরোধিতা করেছেন।
ঢাকা/রাসেল