মার্কিন-ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের সামরিক মুখপাত্রের
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাগারি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাগারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) এক ভিডিও বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোলফাগারি জানান, চলমান সংঘাতের ২৫তম দিনে ইরানি বাহিনী একাধিক আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক অভিযান পরিচালনা করেছে। খবর ইরানি সংবাদমাধ্যম ওয়ানা নিউজের।
সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে টমাহক এবং জেএএসএসএম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু কমব্যাট ও লয়টারিং ড্রোন প্রতিহত করেছে।
জোলফাগারি আরও জানান, ইরানি বাহিনী ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে হাইফার রাফায়েল অস্ত্র কারখানা, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র এবং বিমানবন্দরে অবস্থানরত জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান অন্যতম।
তিনি বলেন, গত রাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭৮তম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় ইলাত, দিমোনা, উত্তর তেল আবিব এবং অঞ্চলের বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ইমাদ ও গদর ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম ও বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়।
মুখপাত্র আরও যোগ করেন, অভিযানের ৭৯তম পর্যায়ে সেজজিল, ইমাদ ও খাইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মহাকাশ বিভাগের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এই হামলাগুলো ইসরায়েলের বহুমুখী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে উত্তর ও মধ্য তেল আবিবের গোয়েন্দা কেন্দ্র, রামাত গান ও নেগেভের সামরিক সহায়তা কেন্দ্র এবং বীরশেবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কমান্ড সেন্টারে আঘাত হেনেছে।
জোলফাগারি বলেন, ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড এবং ২০ লাখেরও বেশি ইসরায়েলির দীর্ঘ সময় ধরে শেল্টারে থাকা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানের প্রভাব এবং প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ারই ইঙ্গিত দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পেন্টাগন ও ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’ যুদ্ধ-সংক্রান্ত সংবাদ ও হামলার ছবি প্রকাশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তার মতে, এটি জনমত নিয়ন্ত্রণ এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা।
ঢাকা/ফিরোজ