ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ১৯ ১৪৩২ || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইরান যুদ্ধে জয়ের দাবি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১৫, ২ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ০৯:২২, ২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে জয়ের দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে বলেছেন, এই সংঘাত শিগগির শেষ হতে চলেছে। 

স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউজ থেকে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প যুদ্ধ জয়ের দাবি করলেও, মার্কিন বাহিনী কবে নাগাদ বা কীভাবে ফিরে আসবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ দেননি। খবর লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের। 

আরো পড়ুন:

ভাষণের শুরুতেই ট্রাম্প যুদ্ধের গত ৩৩ দিনের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি এবং এটি খুব দ্রুতই শেষ হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” 

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন আর আমেরিকার জন্য ‘হুমকি নয়’ এবং যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘নির্ধারক ও অপ্রতিরোধ্য বিজয়’ অর্জন করেছে।

তবে বিজয়ের ঘোষণা দিলেও ট্রাম্পের কণ্ঠে সুর ছিল হুঁশিয়ারির। তিনি জানান, ইরান যদি পাল্টা আঘাত অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোতে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, “যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে একযোগে আঘাত হানব। আমরা চাইলে তাদের তেল সম্পদ মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তাদের ওপর চরম আঘাত হানতে যাচ্ছি। আমরা তাদের সেই পাথুরে যুগে ফিরিয়ে দেব, যেখানে তাদের অবস্থান হওয়া উচিত। এরই মধ্যে আলোচনাও চলছে।”

লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের এই ভাষণে বেশ কিছু অসংলগ্ন তথ্য উঠে এসেছে। ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে চিন্তিত নন, অথচ এর আগে এই ইউরেনিয়ামকেই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল।

এছাড়া, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে একেক সময় একেক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই যুদ্ধের লক্ষ্য কেবল সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা বলে দাবি করলেও, ট্রাম্প বুধবার সরাসরি ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন অর্জিত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প আমেরিকানদের ওপর যুদ্ধের কারণে পড়া অর্থনৈতিক চাপ, যেমন তেলের দাম বৃদ্ধিকে বারবার ছোট করে দেখিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই স্বল্পমেয়াদী আর্থিক চাপ প্রয়োজন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম ‘হুড়মুড় করে কমে যাবে’।

ট্রাম্প বুধবার আবারও বলেন, “গ্যাসের দাম দ্রুত কমে আসবে। স্টকের দাম দ্রুত বাড়বে। এগুলো খুব একটা কমেনি। সত্যি বলতে, সামান্য কমেছিল, তবে কিছু দিন খুব ভালো গেছে।”

ট্রাম্পের ভাষণের কিছুক্ষণ আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি খোলা চিঠিতে এই যুদ্ধকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান যখন পারমাণবিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইসরায়েলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে। আমেরিকান জনগণের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে কার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে?”

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়