ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদুল আজহায় অপরাধরোধে সারাদেশে বাড়তি নিরাপত্তা

মাকসুদুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৯, ২৫ মে ২০২৬   আপডেট: ১১:৩৬, ২৫ মে ২০২৬
ঈদুল আজহায় অপরাধরোধে সারাদেশে বাড়তি নিরাপত্তা

প্রতীকী ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ঘরে ফেরা এবং উৎসবের আনন্দকে নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঈদ মৌসুমে রাজধানীসহ দেশজুড়ে চুরি, পকেটমার, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এবং ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে ফাঁকা শহর এবং মহাসড়কগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটতে পারে, সেজন্য পুলিশের সবকটি ইউনিট একযোগে কাজ করবে।

আরো পড়ুন:

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, অপরাধ কঠোরহস্তে দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটি সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। ঈদের প্রধান আকর্ষণ পশুর হাট ও অভিজাত শপিংমলগুলোতে ওয়াচ টাওয়ার ও অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। হাটে এবং বড় বড় মার্কেটে জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ বসানো হয়েছে, যাতে ব্যবসায়ী বা ক্রেতারা প্রতারণার শিকার না হন। সাধারণ পোশাকে ডিবি এবং র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা কেনাকাটার স্থানগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে বাস টার্মিনাল, রেলওয়ে স্টেশন ও লঞ্চ ঘাটে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্যদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে এবং অপরাধীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মহাসড়কে ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে হাইওয়ে পুলিশের টহল দ্বিগুণ করা হয়েছে।

এছাড়া ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বড় বড় শহরগুলো যখন প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে, তখন বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা বাড়ে। এটি রোধে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকাগুলোতে পুলিশ ও র‍্যাবের নিয়মিত রাত্রীকালীন টহল জোরদার করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মী ও সোসাইটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরিচিত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তা রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করতে পুলিশ সদরদপ্তর, ডিএমপি এবং র‍্যাবের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের ৯৯৯ (জাতীয় জরুরি সেবা) নম্বরে কল করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে শহরের বিভিন্ন প্রবেশমুখ ও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে আকস্মিক চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল ও সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঈদের সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটগুলো সার্বক্ষণিক ভার্চুয়াল জগৎ মনিটর করছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করে জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় জানালার লক এবং প্রধান ফটকের তালা সঠিকভাবে চেক করুন। যাতায়াতের সময় অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার, পানীয় বা তরল জিনিস গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। বড় অঙ্কের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুলিশের ‘মানি এসকট’ সুবিধা গ্রহণ করুন। সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর দেখা মিললে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ পুলিশ বা ৯৯৯-এ জানান।

অপরাধীদের দমনে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আগে থেকেই তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী ও চোরদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।

 

ঢাকা/এমআর/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়