ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যাত্রাবাড়ীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ, বাড়তি ভাড়ায় ঈদযাত্রা  

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩৫, ২৫ মে ২০২৬  
যাত্রাবাড়ীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ, বাড়তি ভাড়ায় ঈদযাত্রা  

ঈদ করতে বাড়িতে ফিরতে যাত্রাবাড়ী কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ভিড়।

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর তিনদিন। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। সোমবার (২৫ মে) যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ ও ধোলাইপাড় বাস টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

এখানে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ফরিদপুর ও মাদারীপুরগামী বাসের কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা গেছে যাত্রীদের। তারা অভিযোগ করেন, কয়েকটি বাসের কাউন্টারে সরকারের নির্ধারণ করে দেওয়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। 

আরো পড়ুন:

ঝালকাঠির যাত্রী জান্নাতুল বলেন, “শ্যামলী পরিবহনে টিকিট কাটলাম। ৫৯০ টাকার জায়গায় ৮০০ টাকা নিল। টিকিটের দাম বেশি নিচ্ছেন কেন জানতে চাইলে, উত্তর দিল সবাই নিচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, কি আর করব।”

ঢাকা-স্বরূপকাঠি রুটের যাত্রী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্বরূপকাঠির সরকারি ভাড়া ৫৯০ টাকা। শ্যামলী কাউন্টার থেকে ৮০০ টাকা চাইল। বললাম ৫৯০ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা কেমনে হয়? কাউন্টারের লোক বলল, ঈদের সময় সব রুটের এক রেট। না গেলে দাঁড়ায় থাকেন।”

পিরোজপুরের যাত্রী আব্দুল খালেক বলেন, “ফোনে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করেছিলাম ভাড়া কত? বললো ৭০০টাকা। টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি ৮০০ টাকা। প্রতিবাদ করলে বলে পেছনের সিট আছে, নিলে নেন।”

ফরিদপুরের যাত্রী সুমাইয়া বলেন, “মাদারীপুরের টিকিট ৩৫০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকা রাখছে। বলছে, ঈদ স্পেশাল সার্ভিস। বিআরটিএর লোকজন সামনে দিয়ে ঘুরে যায়, কেউ কিছু বলে না।”

যাত্রাবাড়ী কাউন্টারের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ডিজেলের দাম বাড়ছে, রাস্তায় চাঁদা লাগে, স্টাফ বেশি লাগে। মালিকের নির্দেশেই ১৫০ থেকে ২১০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে। সরকারিভাবে নিষেধ আছে জানি, কিন্তু না রাখলে গাড়ি চালানো যায় না।”

সাকুরা পরিবহনের যাত্রাবাড়ী কাউন্টার ম্যানেজার মো. হেলাল বলেন, “আমরা সরকারি ভাড়াই নিচ্ছি। যাত্রীরা ভুল বুঝছে। ঈদের সময় অগ্রিম টিকিটের চাপ বেশি, তাই হয়তো কোনো এজেন্ট বেশি নিয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।”

শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার জসিম উদ্দিন বলেন, “৫৯০ টাকাই আমাদের রেট। স্বরূপকাঠি ৮০০ টাকা। কেউ বেশি নিলে সেটা তার ব্যক্তিগত কাজ। কোম্পানি এটার দায় নেবে না।”

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা আমরা সবাইকে জানিয়েছি। ঈদের সময় কিছু অসাধু এজেন্ট অতিরিক্ত টাকা নিতে পারে। এটা আমরা সমর্থন করি না। প্রমাণ পেলে তার লাইসেন্স বাতিল হবে।”

যাত্রীরা বলছেন, অভিযোগ জানানোর জায়গা থাকলেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাগ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফেরার তাড়ায় কেউ ঝামেলায় যেতে চান না।

বরিশালের যাত্রী নাজমুল হক বলেন, “২১০ টাকা বেশি দিলাম, কারণ বাস ছেড়ে দেবে। বাড়ি না গেলে ঈদ হবে না। সরকার যদি শক্ত হতো তাহলে কাউন্টারে কেউ সাহস পেতো না।”

ঢাকা/এএএম/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়