ঢাকা     সোমবার   ২৫ মে ২০২৬ ||  জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪৩৩ || ৮ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চোরের ওপর এসআইর ‘বাটপারি’

নাটোর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৪, ২৪ মে ২০২৬   আপডেট: ২২:৫৪, ২৪ মে ২০২৬
চোরের ওপর এসআইর ‘বাটপারি’

এসআই মো. নজরুল ইসলাম। ফাইল ফটো

চোরের চুরি করে আনা ফ্রিজ পথের মধ্যে উদ্ধার করে নিজের বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাটোরের সিংড়া থানার এসআই মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ যেন চোরের ওপর বাটপারির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

ঘটনাটি মাসখানেক আগের হলেও জানাজানি হয়েছে রবিবার (২৪ মে)।

জানা গেছে, শনিবার থানায় বসে মীমাংসার মাধ্যমে ফ্রিজটি ফেরত পান প্রকৃত মালিক। তবে, তাকে টাকা দিয়ে নিজের ফ্রিজ ফেরত নিতে হয়েছে।

বাটপার শব্দের অর্থ হলো বাটে পড়ে যে। বাট শব্দের অর্থ পথ বা রাস্তা। অর্থাৎ যে দুষ্কৃতকারী অন্য আরেকজন দুষ্কৃতকারীরে দ্বারা পথের মধ্যে বিপদে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছোট ছেলে মাসুম আলী প্রায় দেড় মাস আগে তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যান। চুরির পর গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এ সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানগাড়িটি আটক করেন। এ সময় অভিযুক্ত মাসুম পালিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী সাজু আহমেদ ভুন্ডু ও আবু হানিফের দাবি, পরে এসআই নজরুল ইসলাম পথচারীদের সহায়তায় জব্দ করা ফ্রিজ ও অন্যান্য মালামাল তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরদিন সকালে মাসুম সেখানে গিয়ে চুরির বিষয়টি স্বীকার করলে এসআই নজরুল ইসলাম ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে ফ্রিজটি কিনেছেন বলে মাসুমের স্বাক্ষর নিলেও কোনো টাকা দেননি।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মালামাল ফেরতের দাবি জানান।

ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, ‌“আমার ছোট ভাই আমার বাসা থেকে ফ্রিজ চুরি করেছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে আমি থানায় অভিযোগ করি।”

মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন,“ফ্রিজ চুরির পর জানতে পারি, পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেটি নিয়েছেন। পরে টাকা দিয়ে ফ্রিজটি ফেরত নিতে হয়েছে।”

তিনি আরো জানান, শনিবার সিংড়া সার্কেল অফিসে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ফ্রিজটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করে চলছেন।

সিংড়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন নেই। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।”

নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/আরিফুল/রাজীব

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়