গাইবান্ধায় ধান সংগ্রহের উদ্বোধনেই জালিয়াতি, তালিকায় ভুয়া কৃষক দেখে ক্ষুব্ধ ডিসি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
প্রতি বছরের মতো এবারও গাইবান্ধা জেলায় সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়েছে। তবে, উদ্বোধনের প্রথম দিনেই কৃষক তালিকায় ভুয়া নাম ও ভুল তথ্য থাকার বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়েছে।
রবিবার (২৪ মে) সকালে শহরের খানকা শরীফ এলাকার খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ের উদ্বোধনকালে এ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা।
জানা যায়, উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার বাছাইকৃত কৃষকদের তালিকা থেকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষুদ্র কৃষানি ফরিদা পারভিনের তালিকায় দেওয়া মুঠোফোন নম্বরে কল করেন। কিন্তু, ওপাশ থেকে জানানো হয়, এই নম্বরটি ফরিদা পারভিনের নয় এবং তারা এই নামের কোনো কৃষককেও চেনেন না। উদ্বোধনের দিনেই এমন জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ ফেটে পড়েন জেলা প্রশাসক।
সিন্ডিকেটের কারসাজি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের যোগসাজশে স্থানীয় ফরিয়া ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। তারা প্রকৃত কৃষকদের অজ্ঞাতসারে কিংবা ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তালিকা তৈরি করে। পরবর্তীতে ফরিয়া ব্যবসায়ীরা নিজেদের ধান গুদামে দিয়ে সরকারি টাকা তুলে ভাগাভাগি করে নেয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
এবারও প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্র একই কায়দায় ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশোধিত তালিকার অনেক নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়, আবার কিছু নম্বরের মালিক নিজেদের কৃষক হিসেবেই চেনেন না। ফলে, পুরো ধান সংগ্রহ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, মাঠে যারা রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কষ্ট করে ধান উৎপাদন করেছেন, তাদের অনেকেই তালিকায় জায়গা পাননি। অথচ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া তথ্য ও নম্বর দিয়ে সুবিধাভোগীদের নাম তালিকায় তোলা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রকৃত কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
একনজরে গাইবান্ধায় বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা:
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় মোট ৩ হাজার ১৮৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট সংগ্রহের পরিমাণ: ৯ হাজার৫৬৩ মেট্রিক টন। ধানের সরকারি মূল্য: প্রতি কেজি ৩৬ টাকা (প্রতি টন ৩৬,০০০ টাকা)। জনপ্রতি বরাদ্দের সীমা: একজন নিবন্ধিত কৃষক সর্বোচ্চ ৩ টন করে ধান সরকারি গুদামে দিতে পারবেন।
উপজেলাওয়ারী ধান সংগ্রহের বিভাজন: গোবিন্দগঞ্জ: ২,৩৭৬ মেট্রিক টন। সুন্দরগঞ্জ: ১,৯৬৫ মেট্রিক টন। সদর উপজেলা: ১,৬৬৪ মেট্রিক টন। সাদুল্লাপুর: ১,১৪৬ মেট্রিক টন। সাঘাটা: ১,০৫১ মেট্রিক টন। পলাশবাড়ী: ৯২১ মেট্রিক টন। ফুলছড়ি: ৫৪০ মেট্রিক টন।
প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “কৃষক তালিকায় ভুয়া কৃষকের নাম পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের এই বিশাল ও মহৎ উদ্যোগ কেবল প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার জন্য। আমি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, অনতিবিলম্বে কৃষক তালিকা সম্পূর্ণ যাচাই-বাছাই ও সংশোধন করে তবেই ধান সংগ্রহ করতে হবে।”
অভিযোগের মুখে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিজানুর রহমান বলেন, “কৃষক তালিকার ভুল-ভ্রান্তি ও অনিয়মগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিক করে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে ধান সংগ্রহ করা হবে।”
ঢাকা/মাসুম/রফিক
জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলি, যৌথ বাহিনীর অভিযান