ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

বাষুদূষণে পরীক্ষার ফল খারাপ

শাহিদুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ৯:৪৪:০৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ৯:৪৪:০৬ এএম
প্রতীকী ছবি

ভালো প্রস্তুতির অভাব, পরীক্ষায় পড়া প্রশ্ন না আসা কিংবা খাতায় ঠিক করে প্রশ্নের উত্তর না দেওয়া- পরীক্ষায় ফল খারাপের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে এবার লন্ডনের একদল গবেষক গবেষণা করে ওপরের কারণগুলোর সঙ্গে আরো একটি কারণ যোগ করেছেন। আর তা হলো বায়ুদূষণ।

শুনতে আজগুবি মনে হলেও বিজ্ঞানীরা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই কারণটি চিহ্নিত করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের গবেষক দল ‘এ লেভেল’ শ্রেণীর ২ হাজার ৪ শ ছাত্রের ১০ হাজারের বেশি পরীক্ষার খাতা বিশ্লেষণ করেছেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই সকল ছাত্ররা যে কক্ষে বসে পরীক্ষা দিয়েছেন সেখানকার বাতাসে দূষণকারী পদার্থ পিএম-১০ এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি ছিল। ফলে অন্যদের তূলনায় তাদের পরীক্ষার ফল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ খারাপ হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাতাসে প্রতি কিউবিক মিটারে পিএম-১০ থাকবে ৫০ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু ছাত্ররা যে কক্ষে পরীক্ষা দিয়েছিলেন সেখানকার বাতাসে প্রতি কিউবিক মিটারে পিএম-১০ ছিল ৭৫ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া সেখানকার বাতাসে পিএম-২.৫ এর মতো মারাত্মক দূষণকারী উপাদানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়।

একই ধরনের আরো একটি গবেষণা ইসরায়েলে পরিচালিত হয়। সেখানকার গবেষকদল ৪ লাখ ছাত্রের পরীক্ষা খাতা নিয়ে গবেষণা করেন। তাতে দেখা যায়, বাতাসে প্রতি কিউবিক মিটারে ২৩ দশমিক ৫ মাইক্রোগ্রাম পিএম-২.৫ এর উপস্থিতির কারণে ৩ শতাংশ ছাত্রদের ফল খারাপ হয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাতাসে প্রতি কিউবিক মিটারে ২৫ মাইক্রোগ্রাম পিএম-২.৫ থাকাটা স্বাভাবিক।

সেফি রথ নামের লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের একজন গবেষক উভয় গবেষণার বরাত দিয়ে বলেন, ‘ছাত্রদের পরীক্ষার দিনক্ষণ নিয়ে আরো ভাবা উচিত। যেদিন দূষণের মাত্রা বেশি হবে সেদিন বাইরের কাজকর্ম কমিয়ে দেওয়া বা স্কুলে যেতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করা উচিত।’

দূষণ এবং ফলদায়ক কাজের মধ্যে একটি বিশেষ যোগ আছে উদ্ধৃতি দিয়ে এই গবেষক বলেন, ‘দূষণের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি হচ্ছে, উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পেশার মানুষজনের মানসিক স্বাস্থ্যেও বায়ুদূষণ প্রভাব ফেলছে।’


ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন