শুধু আজান শুনে সাহরি ও ইফতার করা যাবে?
মুফতি আতাউর রহমান || রাইজিংবিডি.কম
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা পানাহার কোরো যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণরেখা থেকে ঊষার শুভ্র রেখা স্পষ্ট রূপে তোমাদের কাছে প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত আসা পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কোরো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৭)
উল্লিখিত আয়াত থেকে প্রমাণ হয়, রোজা একটি নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্ধারিত সময়ের ভেতর পানাহার তথা সাহরি শেষ করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের পর ইফতার করতে হবে। সমাজের সাধারণ প্রচলন হলো, মানুষ ফজরের আজানকে সাহরির শেষ সময় এবং মাগরিবের আজানকে ইফতারের সময় মনে করে। এখন প্রশ্ন হলো, শুধু মসজিদ বা গণমাধ্যমে প্রচারিত আজানের ওপর ভিত্তি করে সাহরি ও ইফতার করা যাবে কি? এভাবে সাহরি ও ইফতার করলে কি রোজা শুদ্ধ হবে?
প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, সাহরি ও ইফতারের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে, আজানের সঙ্গে নয়। তাই সাহরির সময় শেষ হওয়ার পর যদি আজান নাও হয়, তবুও ব্যক্তির জন্য পানাহার করা বৈধ নয়। অন্যদিকে ইফতারের সময় হওয়ার পরও যদি আজান না হয়, তবুও ব্যক্তির জন্য পানাহার করা বৈধ। সুতরাং সাহরি ও ইফতারের ক্ষেত্রে শুধু আজানের ওপর নির্ভর না করে, সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি অনুসরণ করা উচিত। নতুবা রোজা নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে।
কেননা এমনও হতে পারে, মুয়াজ্জিন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, সময় নিয়ে বিভ্রম বা অন্য কোনো অসুবিধার কারণে সাহরির সময় বিলম্বে এবং ইফতারের সময় আগে আজান দিয়ে ফেলল, তখন যারা শুধু আজানের ওপর নির্ভর করবে তাদের রোজা নষ্ট হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে যুগ যুগ ধরে মানুষ কেন ফজরের আজান শুনে সাহরি শেষ করে এবং মাগরিবের আজান শুনে ইফতার গ্রহণ করে? এর উত্তর হলো, সাহরির সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হয়। তবে যেহেতু মানুষের ভেতর সচেতনতার অভাব আছে, একজনের ঘড়ির সঙ্গে অন্যজনের ঘড়ির সময়ের পার্থক্য হয়। তাই সতর্কতামূলক সাহরির শেষ সময় সুবহে সাদিকের আড়াই মিনিট পূর্বে ধরে নেওয়া হয়েছে। যেন সাধারণ মানুষের রোজা নষ্ট না হয়।
অনেকে মনে করেন, আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত খাওয়া যায়। এটা মারাত্মক ভুল চিন্তা। কেননা আজান যদি সঠিক সময়ে দেওয়া হয়, তবে তা সুবহে সাদিকের পর শুরু হয়। আর সাহরির সময় শেষ হয় সুবহে সাদিকের সময়। সুতরাং আজানের আগেই সাহরির সময় শেষ। তাই সতর্কতার দাবি হলো সুবহে সাদিকের আগে অবশ্যই পানাহার বন্ধ করতে হবে। আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত খেলে রোজা হবে না। (মাবসুতে সরখসি : ৩/৭৭)
সাহরির ক্ষেত্রে উত্তম হলো তা বিলম্বে খাওয়া। কিন্তু উলামায়ে কেরাম বলেন, সন্দেহযুক্ত সময় পর্যন্ত বিলম্ব করে সাহরি খাওয়া মাকরুহ। (হেদায়া, রোজা অধ্যায়)
ইফতারের ক্ষেত্রে উত্তম হলো তা দ্রুত সম্পন্ন করা। ইফতারের সময় হয়ে গেলে দেরি না করে জলদি ইফতার করা সুন্নত। সূর্যাস্তের পর রাতের অন্ধকার পর্যন্ত দেরি করে ইফতার করতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষ যতদিন পর্যন্ত তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯৫৭)
আল্লাহ সবাইকে যথাসময়ে সাহরি ও ইফতার করার তাওফিক দিন। আমিন।
ঢাকা/শাহেদ