ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৩ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ১৮ ১৪৩২ || ১৩ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

চুয়াডাঙ্গায় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যয় হবে ১৩২২ কোটি টাকা

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:১২, ৮ ডিসেম্বর ২০২১  
চুয়াডাঙ্গায় সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যয় হবে ১৩২২ কোটি টাকা

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃঞ্চপুরে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

‘নো ইলেক্ট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ৮.১৬ টাকা হিসেবে ২০ বছরে উদ্যোক্তা সংস্থাকে পরিশোধ করতে হবে ১৩২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আরো পড়ুন:

সূত্র জানায়, ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  এ লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলদেশের প্রতি বছর বিদ্যুতের চাহিদা ১০-১৪ শতাংশ হারে বাড়ছে। এই চাহিদা মেটানোর জন্য সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এ পরিকল্পনার আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সার্বজনীন বিদ্যুৎ সেবা দেওয়া এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি অব বাংলাদেশ-১৯৯৬ এর আওতায় বিল্ড,ওন অ্যান্ড অপারেট (বিওও) ভিত্তিতে দেশের টি স্থানে (বারৈয়ারহাট, চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোনা ও ভালুকা) প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসমপন্ন সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে স্পন্সর নির্বাচনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)-এর প্রস্তাবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে গত ২০১ সালের ২৩ মে তারিখে সম্মতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছর ১০ জুলাই চুয়াডাঙ্গা সাইটে দরপত্র জমা পড়লেও কোয়ালিফিকেশন ক্রাইটেরিয়া পূরণ না করায় সব দরপত্র অযোগ্য বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৬ জুন  তারিখে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর চায়না ও  সিঙ্গাপুরের ২টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। কিন্তু জমি সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র অযোগ্য ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড চুয়াডাঙ্গা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড সাবস্টেশনের কাছে ৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে দাখিলকৃত দরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে দরদাতার অভিযোগের বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দেওয়ার জন্য স্পন্সর কোম্পানির অভিযোগ সরেজমিনে ভূমি পরিদর্শন ও জমির প্রকৃতি (কৃষি/অকৃষি) যাচাই করে মতামত দেওয়ার লক্ষ্যে ভূমি পরিদর্শন কমিটি গঠন করে।  কমিটি সরিজমিনে ভূমি পরিদর্শন করে ১৭৫.৮ একর ভূমিতে সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে বলে সুপারিশ করে।

ভূমি পরিদর্শন কমিটির সুপারিশে সিঙ্গাপুরের সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের দরপ্রস্তাবের বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি উদ্যোক্তা সংস্থার ট্যারিফ প্রপোজাল মূল্যায়ন প্রতিবেদন দাখিল করে। মূল্যায়ন প্রতিবেদনে একমাত্র রেসপনসিভ বিডার সিঙ্গাপুরের সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের লেভেলাইজড ট্যারিফ চার্জ (এলটিসি) ১২.০০ ইউ সেন্ট/কিলোওাট ঘণ্টা সমতূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায়  ৯.৬০/কিলোওয়াট ঘণ্টা উল্লেখ করে।

সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প স্থাপনের জন্য বারৈয়ারহাট এবং নেত্রকোনা সাইটের জন্য প্রাপ্ত ট্যারিফ প্রপোজালের চেয়ে চুয়াডাঙ্গা সাইটের জন্য রেসপনসিভ দরদাতার দাখিলকৃত ট্যারিফ প্রপোজাল তুলনামূলক ভাবে বেশি পরিলক্ষিত হওয়ায় বিউবো ট্যারিফ প্রপোজাল গ্রহণ না করে রিউনেবল এনার্জি  পলিসি অব বাংলাদেশ, ২০০৮ এর আওতায় সর্বমোট বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (সংশোধিত-২০২১)-এর আওতায় স্পন্সরের সঙ্গে ট্যারিফ নেগোশিয়েশন করে হ্রাসকৃত দর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে প্রস্তাব পাঠায়।  প্রস্তাবিত স্থানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য উপযোগী এবং কারিগরিভাবেও যোগ্য বিধায় বিশেষ বিধানের মাধ্যমে প্রকল্পটি প্রস্তাবিত দর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা গেলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি খুবই সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, পুনঃদরপত্র আহ্বানের জন্য অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনা করে চুয়াডাঙ্গা সোলার ভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একমাত্র রেসপনসিভ প্রতিষ্ঠান  সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড-এর সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রারিফ অন্যান্য স্থানের তুলনায় বেশি হওয়ায় টেন্ডার কার্যক্রম বাতিল করে এ সংক্রান্ত পূর্ব নজির অনুসরণ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০ (সংশোধন ২০২১০-এর ৬(২) ধারা অনুযায়ী দাখিল করা দর কমানোর লক্ষ্যে নেগোশিয়েশন করার বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতিগত সম্মতি দেন।  এর ভিত্তিতে স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুরের সাইক্লেক্ট এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড ৫০ মেগওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে ২০ বছর মেয়ায়ে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের দাম ইউএস ডলার ০.১০২০ সমতুল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮.১৬ টাকায় সরবরাহ করতে সম্মত হয়।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বুধবার (৮ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

হাসনাত/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়