ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১১ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৯ ||  ১২ মহরম ১৪৪৪

চাল আমদানির অনুমতি

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০১:৫৫, ৩ জুলাই ২০২২   আপডেট: ০৮:০৫, ৩ জুলাই ২০২২
চাল আমদানির অনুমতি

দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে ৪ লাখ ৯ হাজার টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আমদানিকারক ৯৫টি প্রতিষ্ঠান ওই চাল আমদানি করবে। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাল আমদানি করতে বলা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সংগ্রহ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব মুজিবর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অনুমতি দেওয়া হয়।

চিঠির শর্তানুযায়ী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে চালের এলসি খুলতে হবে এবং ১১ আগস্টের মধ্যে আমদানি করা চাল দেশে বাজারজাত শেষ করতে হবে। আমদানি করা চালের মধ্যে ৩ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ৩০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল রয়েছে।

সময়মতো এলসি খুলতে বা আমদানি করতে ব্যর্থ হলে সেসব ব্যবসায়ীর চাল আমদানির অনুমতি বাতিল হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে,প্রতিষ্ঠানগুলোকে জেলা খাদ্য অফিসে জানাতে হবে যে তারা কী পরিমাণ চাল আমদানি করবে, কী পরিমাণ বিক্রি করবে ও কী পরিমাণ মজুত করবে।

বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে চালের দাম কমাতে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২২ জুন থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আমদানি করা চালের ওপর শুল্ক ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ করেছে। তবে প্রতিটি চালান আমদানির সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০টি মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টন আমদানির অনুমতি পেয়েছে। এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান ২৫ হাজার টন করে, তিনটি প্রতিষ্ঠান ২০ হাজার টন করে এবং বাকিগুলো বিভিন্ন পরিমাণ চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে।

চিঠিতে আমদানিকারকদের শর্ত দেওয়া হয়েছে, যে ব্যাগে করে চাল আমদানি করা হবে, সেই একই ব্যাগে করে ব্যবসায়ীদের চাল বিক্রি করতে হবে। অর্থাৎ ব্যাগ পরিবর্তন করে চাল সরবরাহ করা যাবে না।

গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর চালের বাজার অস্থির। এক মাসে চিকন চালের দাম ৯ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)। এছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশে বন্যা ও প্রতিক’ল আবহাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব ধানের ফলনে পড়েছে। যার কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানাচ্ছেন রাইস মিল মালিকরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যায় বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে। এ অবস্থায় খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার বেসরকারিখাতের মাধ্যমে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা/হাসনাত/নাসিম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়