ঢাকা     রোববার   ০২ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৭ ১৪২৯ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪১৪

ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৯, ৯ আগস্ট ২০২২   আপডেট: ২১:০৩, ৯ আগস্ট ২০২২
ফজলে রাব্বীর আসনে নৌকার হাল ধরতে চান যারা

প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে আসনটি (গাইবান্ধা-৫ সাঘাটা-ফুলছড়ি) শূন্য হওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই আসনটি ধরে রাখতে প্রয়াত ডেপুটি স্পিকারের কন্যা ফারজানা রাব্বী বুবলী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে চান। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। উপনির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৫ জন। 

আ.লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ জন হলেন- ফারজানা রাব্বী বুবলী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ এবং যুবলীগ নেতা সুশীল চন্দ্র সরকার। 

সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ সংসদীয় আসন। দুই উপজেলায় কিছুটা রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন বলে মনোনয়নপ্রত্যাশী পাঁচ জন জানিয়েছেন। এই শূন্য আসনের উপনির্বাচনে মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে পাঁচ জনের মধ্যে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি?

প্রয়াত ডেপুটি স্পিকারের ইমেজ ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তার মেয়ে ফারজানা রাব্বী বুবলী। তিনি ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি জানান, প্রায় দুই যুগ ধরে তার বাবার সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাজ করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার সম্মানে তাকেই নৌকা প্রতীক দেবেন। তিনি তার বাবার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে চান। 

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপনও আশাবাদী দলীয় মনোনয়ন পাবেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে লড়বেন। আর নির্বাচিত হলে প্রথমেই উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ বাড়াতে বালাসী-বাহাদুরাবাদ টানেল নির্মাণে উদ্যোগী হবেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন থেকে সাঘাটা-ফুলছড়ি রক্ষার জন্য স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করবেন। চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্রকল্প নিয়ে মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

আ.লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপসম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য শতভাগ আশাবাদী। কারণ ছাত্রজীবন থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে আমি প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। একজন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রশ্নে সবসময় আপসহীন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রাজনীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। সাঘাটা-ফুলছড়ির স্থানীয় রাজনীতিতেও নেতাকর্মীদের সময় দিয়েছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিলে সাঘাটা-ফুলছড়ির সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে নিরলসভাবে কাজ করব। 

অন্যদিকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম সেলিম পারভেজ বিশ্বাস করেন দলীয় নেত্রী অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং যোগ্য প্রার্থীকেই নৌকার মাঝি করবেন।

তিনি বলেন, বিগত দিনে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়ন প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। সরকারের এমন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও দলীয় নেত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বর্তমানে যেকোনও সময়ের চেয়ে ফুলছড়ি-সাঘাটা আওয়ামী লীগ জনপ্রিয় ও সুসংগঠিত।

অপরদিকে আরেকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবলীগ নেতা সুশীল চন্দ্র সরকার জানান, তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী ও জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবার জীবনমান এবং দুই উপজেলার উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কোনও আসন শূন্য হলে তার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধা-৫ আসনটি শূন্য হয়েছে গত ২৩ জুলাই। এদিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন বলতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে বোঝায়। এ হিসেবে আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে উপ-নির্বাচনটি সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ২৪ জুলাই সংসদ সচিবালয়ের সচিব কে এম আব্দুস সালাম আসন শূন্য ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করেন।

হাসান/এনএইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়