ঢাকা     সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ১৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক প্যাকেজিং মেলা শুরু ২৮ জানুয়ারি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:১৪, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬  
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক প্যাকেজিং মেলা শুরু ২৮ জানুয়ারি

কৃষিতে প্লাস্টিক ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরতে ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে ‘১৮তম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক, প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেয়ার–২০২৬’ (আইপিএফ-২৬)। আগামী ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে চার দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানীকারক এসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি শামীম আহমেদ।

আরো পড়ুন:

বিপিজিএমইএ ও হংকংভিত্তিক ইউর্কারস ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিস কোম্পানি যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে। সংবাদ সম্মেলনে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে জানানো হয়, মেলা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। এবারের মেলায় ১৮টি দেশ থেকে ৩৯০টির বেশি ব্র্যান্ড অংশ নেবে এবং থাকবে ৮০০টিরও বেশি স্টল। চীন, ভারত, ইতালি, জাপান, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের পণ্য প্রদর্শিত হবে।

এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য “প্লাস্টিক ইউজ ইন এগ্রিকালচার”। আয়োজকদের মতে, আধুনিক কৃষিতে মালচিং ফিল্ম, গ্রিনহাউস, ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচ ব্যবস্থায় প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে পানি সাশ্রয় হচ্ছে, ফসলের ক্ষতি কমছে এবং কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাচ্ছে।

তবে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। এ কারণে রিসাইক্লিং, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আয়োজকরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, মেলায় পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্লাস্টিক শিল্পের ভবিষ্যৎ, টেকসই উৎপাদন, এসএমই উন্নয়ন ও রপ্তানি সম্ভাবনা নিয়ে একাধিক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

বিপিজিএমইএ সভাপতি শামীম আহমেদ জানান, প্যাকেজিং, পি.পি. ওভেন, খেলনা, ক্রোকারিজ, ফার্নিচার, হাউজহোল্ড আইটেম, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স খাত প্লাস্টিক শিল্পের উল্লেখযোগ্য সাব-সেক্টর। প্লাস্টিক খেলনা, ওভেন ব্যাগ ও ক্রোকারিজ পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্তমানে দেশে উন্নতমানের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে এবং পি.পি. ওভেন খাতে প্রায় ৮০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেখানে বিনিয়োগ হয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তিনি আরো জানান, বৈশ্বিকভাবে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্য টেক্সটাইল ও অ্যাপারেলসের মতোই একটি বড় শিল্পখাত। বর্তমানে বৈশ্বিক প্লাস্টিক বাজারে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশ হলেও দেশের প্লাস্টিক রপ্তানি খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পের বাজারমূল্য প্রায় ২.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ৮৩.৪ শতাংশ পণ্য দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবহৃত হয় এবং বাকি ১৬.৬ শতাংশ রপ্তানি করা হয়। প্লাস্টিক উৎপাদনে বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার ২০ শতাংশের বেশি।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, আইপিএফ-২৬ মেলার মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আসবে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সংযোগ বাড়বে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড আরো শক্তিশালী হবে।

ঢাকা/নাজমুল/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়