সংরক্ষিত নারী আসন
বিএনপি ও জামায়াত জোট বহাল, স্বতন্ত্ররা আলাদা
ফাইল ফটো
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা তাদের জোটগত অবস্থান নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানিয়েছে। ইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ সংসদ নির্বাচনে যে জোট কাঠামো ছিল, সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটেও তা বহাল থাকছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট আগের মতোই একসঙ্গে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, সংসদে নির্বাচিত সাতজন স্বতন্ত্র সদস্যের মধ্যে ছয়জন একটি পৃথক জোট গঠন করেছেন। তবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আলোচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কোনো জোটে যোগ দেননি। একইভাবে বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহও কোনো জোটে যুক্ত হচ্ছেন না। যদিও আইন অনুযায়ী তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
ইসি সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের কাছে কমিশন থেকে চিঠি পাঠানো হয়। দলগুলো জোটগতভাবে নির্বাচন করবে কি না, সে বিষয়ে সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হয়। নির্ধারিত সময়সীমা ৫ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দলগুলো তার আগেই তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সে হিসেবে আগামী ১৪ মে’র আগেই ভোটগ্রহণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংসদের সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। ৩০০ আসনের সংসদে প্রতি ছয়জন সাধারণ সংসদ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন নির্ধারিত থাকে। তবে, নির্বাচনের সময়ে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত ও চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় বর্তমানে ২৯৭টি আসনের ভিত্তিতে হিসাব করা হচ্ছে।
এই হিসেবে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কার্যকরভাবে ২০৮টি আসন পাওয়ায় এককভাবে প্রায় ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে, জোটগত অবস্থানের কারণে তা বেড়ে ৩৬টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ৬৮টি আসনে জয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে প্রায় ১১টি আসন পেলেও জোটের কারণে তা বেড়ে ১৩টিতে পৌঁছেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এককভাবে ৬টি আসন পাওয়ায় একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে। এছাড়া, ছয় স্বতন্ত্র সদস্যের জোট একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে সাধারণত দল ও জোটগুলো তাদের বরাদ্দকৃত আসনের বিপরীতে একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ফলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব আসনে প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেছেন, “আমরা দ্রুতই সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোট আয়োজন করব। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে জোটগত অবস্থানের চিঠি পেয়েছি। বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তাদের অবস্থান বহাল রেখেছে। একইসঙ্গে ছয়জন স্বতন্ত্র সদস্যের একটি জোট গঠনের তথ্যও আমাদের কাছে এসেছে। একজন স্বতন্ত্র সদস্য কোনো জোটে নেই।”
তিনি আরো বলেন, “আইন অনুযায়ী দ্রুতই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।”
ঢাকা/এমএসবি/রফিক
‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ বিল আকারে পাসের বিষয়ে ঐকমত্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী