ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘পদ্মাসেতু নয়, হাজার কোটি টাকা পাচারেই গায়ে জ্বালা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২৬ মে ২০২২  
‘পদ্মাসেতু নয়, হাজার কোটি টাকা পাচারেই গায়ে জ্বালা’

ছবি : মেসবাহ য়াযাদ

পদ্মা সেতু নয়, মেগা প্রকল্পের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশ পাচারেই আমাদের ‘গায়ে জ্বালা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

‘পদ্মা সেতুর কারণে সারা দেশের মানুষ খুশি হলেও বিএনপি ও তাদের দোসরদের বুকে অনেক জ্বালা সৃষ্টি হয়েছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দুপুরে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার বর্তমানে সারাক্ষণ শুধু পদ্মাসেতু নিয়ে বলছে। পদ্মাসেতু তো কারো পৈত্রিক সম্পত্তি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে না। পদ্মাসেতু এ দেশের মানুষের পকেটের টাকা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। যেই পদ্মাসেতু করতে লাগত ১০ হাজার কোটি টাকায়। সেটা তৈরি করা হচ্ছে এখন ৩০-৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গায়ে নাকি জ্বালা হচ্ছে। গায়ে জ্বালা তো হচ্ছেই, তবে সেটা পদ্মাসেতুর জন্য নয়। পদ্মাসেতুর প্রজেক্ট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে ওরা বিদেশে সম্পদ করছে-এখানেই আমাদের গায়ে জ্বালা হচ্ছে। কারণ, এটা আমাদের দেশের জনগণের কষ্টার্জিত টাকা। আর সমস্ত মেগা প্রজেক্ট থেকেই তারা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।’

মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন, মিরপুর থেকে কিছুক্ষণ পর পর স্টেশন। এত স্টেশনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। শেওড়াপাড়ায় একটা, আগারগাঁওতে একটা, তারপরে সংসদ ভবনের ওখানে আরেকটা, এরপর ফার্মগেটে একটা। এতো কাছাকাছি স্টেশন পৃথিবীর আর কোথাও দেখিনি। এত স্টেশন করার কারণ একটাই- অনেক টাকা পাওয়া যাবে। এদের লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি এবং বাংলাদেশকে লুটে নিয়ে যাওয়া।’

মেগা প্রকল্পের নামে সরকার দেশকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘সরকার দেশকে ঋণের গভীরে নিয়ে গেছে। আমরা পুরোপুরি ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সকলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মনে রাখবেন, এটা আমাদের বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন। আমরা যদি এটাতে জয়যুক্ত না হতে পারি- তবে আমাদের গণতন্ত্র বলুন, অর্থনীতি বলুন, সমাজ বলুন, ভবিষ্যত বলুন- সব ধবংস হয়ে যাবে। এ সরকারকে যদি আমরা এখনই প্রতিরোধ করতে না পারি, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রের এবং জাতির অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারব না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়া পরিষদকে অনুরোধ জানাবো, আপনারা দয়া করে গবেষণার কাজগুলো করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বেশি বেশি করে সংগঠনে নিয়ে আসুন। আমরা যারা পুরনো হয়ে গেছি, তারা অনেক কিছুই পারি না। ইয়াং যারা আছেন, তারা অনেক কিছু পারেন, পারবেন। তাদেরকে দায়িত্ব দিয়ে দেখুন তারা অনেক বেশি কাজ করতে পারবে এবং রাজনীতিতে গতিশীলতা আনতে পারবে।’

‘কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে জিয়া পরিষদ বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে সংকলিত এই গ্রন্থের প্রকাশক জিয়া পরিষদের পক্ষে অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী এম সলিমুল্লাহ খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার, অধ্যাপক আবু জাফর খান, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, আবদুল্লাহ হিল মাসুদ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আকন্দ মামুন, অধ্যাপক মইনুল হক, অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, খান মো. মনোয়ারুল ইসলাম, খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, এনামুল ইসলাম এনাম, মোস্তফা কামাল পাশা, রবিউল ইসলাম, জাহেদুল আলম হিটো, রিয়াজ উদ্দিন নসু প্রমূখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মেয়া/সনি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়