ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭ ||  ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

হৃদপিণ্ডে করোনার মারাত্মক প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ১৪ জুলাই ২০২০  
হৃদপিণ্ডে করোনার মারাত্মক প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণা

করোনাভাইরাস হৃদপিণ্ডে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। করোনায় আক্রান্ত অর্ধেকেরও বেশি রোগীর ইকো পরীক্ষায় হৃদপিণ্ডে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে বলে নতুন একটি গবেষণায় জানানো হয়েছে।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৬৯টি দেশের ১,২৬১ জন কোভিড-১৯ রোগীর আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেন, যা ইকোকার্ডিওগ্রাম বা ইকো পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত।

গবেষকরা ৫৫ শতাংশ রোগীর হার্ট পাম্প প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন আবিষ্কার করেছেন এবং প্রতি সাত জনের মধ্যে এক জনের হৃদপিণ্ডে গুরুতর অসুস্থতা দেখা গেছে। গবেষণায় আরো উঠে এসেছে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ৩ শতাংশ রোগী সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক করেছেন।

এই গবেষণার বেশিরভাগ রোগীদের (৯০১ জনের) এর আগে হার্টের কোনো সমস্যা ছিল না। ফলে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগটি নিজ থেকেই হৃদপিণ্ডে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

ইকো রিপোর্টের ছবিগুলোতে দেখা যায়, হৃদপিণ্ডের বাম এবং ডান অংশের অস্বাভাবিক মাত্রা প্রায় সমান। যদিও এ কারণে রোগীদের হৃদপিণ্ড ড্যামেজ হওয়া সাধারণ বিষয় হয়ে উঠবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। গবেষক দলটি জোর দিয়ে বলেছেন, গবেষণার সব রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এবং ইকো পরীক্ষার পর এক তৃতীয়াংশ রোগীর চিকিৎসায় পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে হৃদপিণ্ড ড্যামেজ হওয়া এড়াতে ওষুধ বা হৃদপিণ্ডের কাজ স্বাভাবিক করার জন্য আরো যত্নের সঙ্গে প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রদান।

গবেষণার প্রধান প্রফেসর মার্ক ডুয়েক বলেন, ‘কোভিড-১৯ একটি জটিল রোগ, যা হৃদপিণ্ডসহ শরীরের অনেক অঙ্গে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক চিকিৎসক রোগীদের ইকো পরীক্ষা করতে চান না। কারণ তারা মনে করেন, এটি একটি অতিরিক্ত পরীক্ষা। কিন্তু গুরুত্ব বিবেচনায় এটি এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।’

প্রফেসর ডুয়েক আরো বলেন, ‘আমাদের গবেষণার ফল বলছে, এই পরীক্ষার পরই রোগীর হার্টের সমস্যা ধরা পড়েছে এবং এক তৃতীয়াংশ রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেয়ে উন্নতি করেছে।’

সাধারণত মারাত্মক ফ্লুতে আক্রান্ত হলে হৃদপিণ্ডের বড় ক্ষতি হয় বলে জানা যায়। কিন্তু কোভিড-১৯ রোগের প্রভাবে হৃদপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি হওয়া সম্পর্কিত এই গবেষণায় অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। কার্ডিওভাসকুলার ইমেজিং নামে এই গবেষণা ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন (বিএইচএফ) দ্বারা অর্থায়িত হয়েছে এবং ইউরোপিয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত।

বিএইচএফ-এর অ্যাসোসিয়েট মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. নারায়ণ বলেন, ‘এই বৈশ্বিক গবেষণাটি দেখায় যে, কোভিড-১৯ রোগীদের বেলায় হৃদরোগের জটিলতার বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। যাতে প্রয়োজনে আমরা তাদের চিকিৎসা মানিয়ে নিতে পারি।’

 

ঢাকা/ফিরোজ/তারা

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়