ব্যায়াম কী মনস্তাত্ত্বিক থেরাপি?
দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ছবি: চ্যাটজিপিটির সাহায্যে তৈরি
নিয়মিত ব্যায়াম করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়—বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে। গবেষকেরা বলছেন,‘‘ব্যায়াম বিষণ্নতার উপসর্গ কমাতে চিকিৎসার মতোই কার্যকর হতে পারে।’’ চিকিৎসকেরা ব্যায়ামকে মনস্তাত্ত্বিক থেরাপির সঙ্গে তুলনা করছেন। তারা জানাচ্ছেন, ব্যায়াম হলো কম খরচে বিষণ্নতার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের সহায়ক একটি পদ্ধতি। তাই রোগী ও চিকিৎসক—দু’পক্ষের কাছেই এটি একটি আদর্শ বিকল্প হতে পারে। সুতরাং ব্যায়ামকে কেবল ‘লাইফস্টাইল পরামর্শ’ না ভেবে, বরং একটি সম্ভাব্য প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিষণ্নতা একটি কমন রোগ। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক এই রোগে আক্রান্ত। একটি জরিপে দেখা গেছে, ২০২১ সালে বিষণ্নতায় ভোগা মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৬১ শতাংশ কোনো না কোনো চিকিৎসা পেয়েছিলেন।
মনোবিজ্ঞানী মেনিজে বোদুরিয়ান-টার্নার বলেন, “এটা ভাবা ঠিক হবে না যে ‘ব্যায়াম থেরাপির সমান।’ থেরাপি চিন্তা ও মানসিক ক্ষতের মূল প্রক্রিয়াকে বদলায়। ওষুধ মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য ঠিক করে। আর ব্যায়াম স্নায়ুতন্ত্রকে রিসেট করে। এগুলো একে অপরের বিকল্প নয়, বরং ভিন্ন কাজ করে।”
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর বেশি সক্রিয় থাকে। আর সক্রিয় ব্যক্তিদের বিষণ্নতার ঝুঁকি প্রায় ১৭ শতাংশ কম হতে পারে। অন্যদিকে কম কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস থাকলে বিষণ্নতা হওয়ার ঝুঁকি ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
২০২৪ সালের একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্যায়াম তিনটি উপায়ে বিষণ্নতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে—
প্রদাহ কমে
সার্কাডিয়ান রিদম বা দেহঘড়ি ঠিক থাকে
ঘুমের মান উন্নত হয়
মেজাজ ও শক্তি নিয়ন্ত্রণে থাকে
তবে ব্যায়াম সবার জন্য সময় উপকারী নাও হতে পারে। লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের জেরিয়াট্রিক মেডিসিনের অধ্যাপক অ্যান্ড্রু ক্লেগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘‘ব্যায়াম কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে, তবে সবার ক্ষেত্রে নয়। তাই এমন পদ্ধতি খুঁজে বের করা জরুরি, যেগুলো মানুষ নিয়মিত করতে পারবে এবং ধরে রাখতে পারবে।”
সূত্র: হেলথলাইন
ঢাকা/লিপি