RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ৭ ১৪২৭ ||  ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ইসি

হাসিবুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করবে ইসি

হাসিবুল ইসলাম মিথুন : সম্প্রতি অধিকহারে বেড়ে গেছে অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া জালিয়াত চক্রের আনাগোনা। আর তাই এই চক্রকে ধরতে এবার মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সেটা প্রকাশ্যে নয়। গোপনেই এই জালিয়াত চক্রের বিষয়ে তদন্ত করবে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইসির মধ্যেই কেউ আছেন যারা এইসব অবৈধ কাজে জড়িত। হাঁকডাক দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে কোন কাজে আসবে না। তাহলে এরা সতর্ক হয়ে যাবে। তাই এদের বিরুদ্ধে গোপনে তদন্ত করতে হবে। তাহলেই হয়তো আসল রহস্য বের হবে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে এক রোহিঙ্গা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং তার তথ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্যভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পায়। তার আগে বরিশাল, নোয়াখালী অঞ্চলে কয়েকজনের জালিয়াতি করে ভোটার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

এর পরেই মূলত নির্বাচন কমিশনের এনআইডি বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারিরা নড়েচড়ে বসেছেন এই জালিয়াতি চক্র খুঁজতে।

এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.) রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অযোগ্য বা যারা বাংলাদেশি নাগরিক নন এমন কোনো ব্যাক্তি যাতে জাতীয় পরিচয়পত্র না পায়, সে জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া আছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এই জোনকে বিশেষ ভাবে মনিটরিং করা হয়। এই এলাকার জন্য কমিটি করে দেয়া আছে। তারা খুব সূক্ষ্মভাবে এটি মনিটরিং করছে।’

এতো মনিটরিংয়ের পরও সম্প্রতি রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র কিভাবে পাচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরাও শুনেছি এবং পত্র পত্রিকায় পড়েছি এমন দুই একটা ঘটনা। আমরা আসলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা রয়েছেন তাদের মাধ্যমেই নাগরিকদের তথ্য এনে থাকি। তাদের উপরেই আসলে আমাদের কিছুটা হলেও নির্ভর করতে হয়। আমার মনে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার পেছনে স্থানীয় জন প্রতিনিধি যারা আছেন তারাই জড়িত।’

নির্বাচন কমিশন উদ্বিগ্ন কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন দুই একটা ঘটনার জন্য কমিশন উদ্বিগ্ন নয়। কমিশন সব সময়ই সকল অভিযোগের তদন্ত করে। সেটা মিয়ানমারের রোহিঙ্গা হোক বা অন্য কোন দেশের নাগরিক হোক।’

তিনি আরো বলেন, ‘কমিশনের চিহ্নিত কিছু বিশেষ এলাকা রয়েছে যেখানে প্রকৃত ও যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার করতে বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। যেন বহিরাগত বা কোনো অনুপ্রবেশকারী ভোটার হতে না পারে। এ জন্য আমাদের মাঠ পর্ায়ের কর্মীদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশনাও দেয়া আছে।’

রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মোখলেছুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা শুনেছি রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয়টি। যে সকল রোহিঙ্গার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ ভূয়া। তারা ভূয়া কার্ড ব্যবহার করে।’

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অণুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা কোন ছাড় দিতে রাজি নই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই চিন্তিত, তবে উদ্বিগ্ন নই। দু-একজন রোহিঙ্গার এনআইডি সংগ্রহের ঘটনা ঘটেছে, আমরা সেটি তদন্ত করছি।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশে অনেক বছর ধরেই রোহিঙ্গা প্রবেশ করছে। তারা অনেকভাবেই এই দেশে থাকার জন্য বা অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে সম্প্রতি ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে তাদের পরিচয়পত্র পাওয়ার কোন ধরণের সম্ভাবনা নেই। যারা পরিচয়পত্র পাচ্ছে তারা অবশ্যই ২০০৭ বা ২০০৮ সালের আগে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা। কারণ, শেষ ১০ লাখ বা তার অধিক রোহিঙ্গার আঙ্গুলের ছাপ ইসির সার্ভারে আছে। যার জন্য নতুনরা কিছুতেই পরিচয়পত্র নিতে পারবেনা। যদি পরিচয়পত্র পাওয়ার চেষ্টাও করে থাকে তাহলে ইসির কাছে ধরা পড়বে।’


রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ সেপ্টেম্বর ২০১৯/হাসিবুল/শাহনেওয়াজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়