ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০২ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না অধিকাংশ গণপরিবহনে

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ৩:৩৫:৩৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ১১:১৭:৩৫ পিএম

রাজধানীতে জীবিকার তাগিদে মানুষ কর্মস্থলে ছুটছেন। তাই গণপরিবহনে বেশ ভিড়। তবে তদারকি না থাকায় গণপরিবহনে যেসব স্বাস্থ‌্যবিধি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। যাত্রী ও গণপরিবহন শ্রমিকদের অসচেতনতার কারণে বাড়ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি।

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্তে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিতে বলা হচ্ছে। এজন‌্য ৬০ শতাংশ ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অনেক গণপরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হলেও যাত্রী তোলা হচ্ছে ঠাসাঠাসি করে।

বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। হেলপাররা আগের মতো টেনে টেনে বাসে যাত্রী তুলছেন। যাত্রী ওঠা-নামার সময় তারা দরজার সামনেই দাঁড়িয়ে থাকছেন। এতে যাত্রীদের হেলপারের শরীর ঘেঁষেই গাড়িতে উঠতে হচ্ছে। গাড়িতে ওঠানোর আগে হেলপাররা দায়সারাভাবে যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন। এদিকে কন্ডাক্টররা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের সময় সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। তারা যাত্রীদের খুব কাছে গিয়েই ভাড়া নিচ্ছেন। এতে পরিবহন শ্রমিক আর যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না। এদিকে, কোনো গণপরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটানোর দৃশ্য দেখা যায়নি। পরিবহন শ্রমিকরা দাবি করছেন, ট্রিপ শেষে তারা পুরো গাড়িতে জীবাণুনাশক স্প্রে করেন। বারবার জীবাণুনাশক ছিটানো হলে যে খরচ হবে, তাতে ট্রিপ শেষে জ্বালানি খরচের টাকাই উঠবে না বলে দাবি তাদের।

গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকানা এক্সপ্রেসের বাসচালক মো. তারেক বলেন, যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য সবকিছুই করা হচ্ছে। বাস পরিষ্কার করছি, অর্ধেক যাত্রী নিচ্ছি, জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছি, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখতে যাত্রীদের অনুরোধ করছি। সবারই তো জীবনের ভয় আছে। স্বাস্থ্যবিধি মানলে যাত্রীরা যেমন সুস্থ থাকবেন, আমরাও সুস্থ থাকব।’

হেলপারদের বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক যাত্রী আছেন যাদের গাড়িতে উঠতে কষ্ট হয়। তাদের গাড়িতে তোলার জন্য হেলপাররা দরজায় থাকে।’

একই পরিবহনের কন্ডাক্টর মো. সাগরের কাছে ভাড়া আদায়ের সময় সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব সময় চেষ্টা করি মানার জন্য। মাঝে মধ্যে একটু এদিক-সেদিক হয়। এরপর থেকে চেষ্টা করব নিয়ম মেনে চলার।’

এদিকে, গণপরিবহনে উঠতে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করতে দেখা গেছে। তাদের মধ‌্যে অনেকে মাস্ক পরছেন না। অনেককে গাড়িতে উঠে একজনের পাশে বসতে দেখা গেছে।

রাজধানীর বকশীবাজারে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘১০টায় অফিস। এখন সাড়ে ৯টা বেজে গেছে। সেই ৯টা থেকে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাস আসলেও উঠতে পারছি না। তাই তো বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই শেষ পর্যন্ত উঠে পড়লাম। অফিসে তো পৌঁছাতে হবে।’

অন‌্যদিকে, ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়ার দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক বাসেই দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ‌্যে বাকবিতণ্ডাও দেখা গেছে।

আবির হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘এক সিট পর পর যাত্রীদের বসানো হয়েছে। তবে বাসের আসনগুলো পরিষ্কার না। দেখে মনে হচ্ছে না যে জীবাণুনাশক ছিটানো হয়েছে। ভাড়াও বেশি দেব, আবার করোনার ঝুঁকিতেও থাকব, তা হতে পারে না। এ বিষয়ে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।’

 

ঢাকা/মামুন খান/রফিক