Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ৩ ১৪২৮ ||  ০৯ সফর ১৪৪৩

কোরবানির বাজারে বিদেশি গরু, লোকসানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ১৭ জুলাই ২০২১  
কোরবানির বাজারে বিদেশি গরু, লোকসানের আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটে দেশি গরুর পাশাপাশি বিদেশি গরুতে বাজার সয়লাব হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় আছেন গরু ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে রাজধানীর গাবতলী, আফতাবনগর ও হাজারীবাগ গরুর হাট ঘুরে বিদেশী গরুর সন্ধান পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে আমদানী নিষিদ্ধ ব্রাহমা জাতের গরুর পাশাপা‌শি অন্য জা‌তের বি‌দে‌শি গরুর দেখা পাওয়া গেছে হাটে। হাট ছাড়াও এমন জাতের গরু আমদানী করে ঈদ বাজারের জন্য লালন-পালন করা খামারের সন্ধান পাওয়া গেছে খোদ রাজধানী শহরে।

পাবনার গরু ব্যবসায়ী এহসান মিয়া আসছেন গাবতলী গরুর হাটে। তিনি বলেন, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে, ঈদের কয়েকমাস আগ থেকে দেশি গরু কিনে ভালোভাবে লালন-পালন করি। আর্থিকভাবে একটু স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় পশুগুলো কোরবানি যোগ্য করতে লালন-পালন বাবদ লাখ লাখ  টাকা লখরচ করি। কিন্তু দেশের কোরবানির বাজারে বিদেশী গরু ভিড়ে আমরা দেশি গরুর স্বাভাবিক মূল্য পাবো না। আমাদেরকে লোকসান গুনতে হবে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে আফতাব নগর হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী খোকন মিয়া জানান, সারা বছর গরু লালন-পালন করি কোরবানি ঈদে বিক্রি করে একটু লাভের আশায়। গরু লালন-পালন, খাবারের পাশাপাশি গরুকে দেখাশুনার জন্য ডাক্তারের খরচও আছে। সব মিলিয়ে ১০/১২ টা গরু লালন-পালন করতে প্রায় ৩/৪ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। এরপর গরুগুলো বাজারে এনে দেখি বিদেশি গরুও বাজারে এসেছে। তখন আমাদের লোকসান গোনা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।

রংপুর থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় হাজারীবাগে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের গরুর পাশাপশি যদি বিদেশি গরু বাজারে আসে, তাহলে আমরা সাধারণ গরু ব্যবসায়ীরা না খেয়ে মারা পড়বো। বিদেশী গরুগুলো বাজারে আসলে আমাদের গরুর দাম একেবারে কমে যায়। এছাড়াও, বিদেশি গরু দেশে আসায় সাথে করে দেশীয় গরুর জন্য নানা রকম রোগ নিয়ে আসে। যা আমাদের দেশীয় গরুর জন্য খুবই খারাপ।

সারা বছর ধরে গাবতলী হাটে গরুর ব্যবসা করেন মুন্সিগঞ্জেরে রহমত আলী। তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বিদেশী গরু দেশে আসে। বিশেষ করে কোরবানির সময় এলেই এই অসাধু চক্রের কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। ফলে আমাদের মতো সাধারণ ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়। আমরা চাই এসব অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

কোরবানির বাজারে বিদেশি গরু আমদানি এবং বিক্রির বিষয়ে সরকারের স্পষ্ঠত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বাজারে দেদারসে বিদেশি গরুর দেখা মিলেছে এবারের কোরবানির হাটের প্রথমদিনেই।

ঢাকা/মেসবাহ/এমএম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়